ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুদার দোকানে হানা পুরসভার। শিয়ালদহে এনআরএস হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে পকেট পরোটা বিক্রি করেন তিনি। শনিবার সকালে আচমকা সেখানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, পরোটা বিক্রির কোনও লাইসেন্স নেই রাজুদার কাছে। ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুদা জানান, ফ্লোর টেস্টে তাঁর তৈরি তরকারি পাশ করেছে। ল্যাব টেস্টের জন্য খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা। তাঁকে সার্জিকাল ক্যাপ পরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজুদার দোকানের পাশাপাশি এদিন সকালে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একাধিক দোকানে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
শনিবার সকালে আচমকা শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন খাবারের দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। একাধিক দোকানে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। সিঙরা, কচুরির তরকারি, মাছ, মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে রাসায়নিক মিশিয়ে দেখা হয়। রাসায়নিক মেশানোর পরেই ওই খাবারের গুণগত মান সম্পর্কে জানতে পারেন আধিকারিকরা। এরপর পচা খাবারগুলিকে ফেলে দেওয়া হয়। মোট ১০০টি সিঙারা, কচুরির ডাল, তরকারি, পচা চিকেন, মাছের ডিম ফেলে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, গুণগত মান পরীক্ষায় এই খাবারগুলি উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সেই কারণে ফেলে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দোকানদারদেরও সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশন সংলগ্ন রাজুদার দোকানেও হানা দেন আধিকারিকরা। ফ্লোর টেস্টে তাঁর তরকারি পাশ করেছে। সেগুলি ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৭ দিন পর রিপোর্ট আসবে। এদিন রাজুদার কাছ থেকে পরোটা বিক্রির লাইসেন্স চান আধিকারিকরা। কিন্তু কোনও লাইসেন্স দিতে পারেননি রাজুদা।
রাজুদার কথায়, “লাইসেন্স সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। বাড়িতে ১০-১২ কেজি ময়দার পরোটা বানাই। ৩টে ৪৫-এর ট্রেন ধরে কলকাতায় এসে বিক্রি করি। সকাল ১১টায় আবার ফিরে যাই। স্যাররা লাইসেন্সের কথা বললেন। এবার লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু খাবার নিয়ে কেউ কোনও আপত্তি জানাতে পারবে না।” এবার থেকে তিনি সার্জিক্যাল ক্যাপ ও গ্লাভস পরবেন বলে জানান রাজুদা।