রাত পোহালেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা। এই সন্ধিক্ষণেই শাস্ত্রমতে পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পন করার রীতি আছে। ভোর রাত থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ঢল নামবে পুণ্যার্থীদের। তাঁদের সুবিধার্থেই গঙ্গার ঘাটগুলিকে আঁটসাঁট নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে বিশেষ উদ্যোগ। কলকাতা ও হাওড়ায় গঙ্গার ঘাটগুলি চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। দুর্ঘটনা এড়াতে জলেই ভাসমান ব্যারিকেড করা হবে এবার। কলকাতা ও হাওড়ার সব ঘাটগুলিতে নজরদারি চালাতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই সমস্ত ঘাট, সিঁড়ি, বাঁধ, নামার জায়গা (ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম) এবং ঘাটে যাওয়ার রাস্তাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘাট ও ঘাটের সংলগ্ন জলে জমে থাকা আবর্জনা, পলি, আগাছা, ফুলের বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা সরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত আবর্জনার পাত্র বাধ্যতামূলক। তর্পন শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত ঘাট পরিষ্কারের জন্য সাফাই কর্মী মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ঘাটে বায়ো-টয়লেট ও মহিলাদের জন্য চেঞ্জিং রুমের ব্যবস্থা। ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত সমস্ত ঘাট, সিঁড়ি, ঘাটে যাওয়ার রাস্তা এবং গাড়ি রাখার জায়গাগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে কোনও বিপদ এড়াতে প্রতিটি প্রধান ঘাটে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, অসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক, লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়, দড়ি ও উদ্ধারকারী সরঞ্জাম-সহ মোটরচালিত নৌকা মোতায়েন থাকবে এবং ঘাট-সংলগ্ন জলভাগে তারা অবিরাম টহল দেবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার ঘাটগুলিতে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ সমস্ত প্রধান ঘাটে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প থাকবে। রাখা হবে অ্যাম্বুল্যান্সও। এবং কলকাতা-হাওড়া পুরসভা ও পুলিশ কমিশনারেট যৌথ উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। ঘাটগুলিতে নিযুক্ত নোডাল অফিসাররা কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ বজায় রাখবেন। সচল থাকবে নবান্নে অবস্থিত রাজ্যের জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র।