জ্ঞানেশের পদত্যাগ চেয়ে ফের পথে বিরোধীরা! রণকৌশল ঠিক করতে আজই বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট


# জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি! রণকৌশল ঠিক করতে আজই বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

পুজোর মরসুম কাটতেই ফের রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। সেই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসতে পারেন জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। ভারচুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও বিরোধী জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতাদেরও বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বৈঠকের চূড়ান্ত সূচি এবং উপস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটচুরির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আরও একবার আন্দোলনকে জোরদার করতে চাইছে বিরোধীরা। পুজোর আগে এই দাবিকে সামনে রেখেই রাজধানী দিল্লিতে একাধিকবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন বিরোধী দলের নেতারা। সংসদীয় রাজনীতির পরিসর ছাড়িয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বিরোধী শিবির। এবার উৎসবের বিরতির পর সেই আন্দোলনকে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মূলত তা নিয়েই আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।

**এসআইআর ও ভোটচুরির অভিযোগ ঘিরে আগেও উত্তাল হয়েছে রাজধানী**

পুজোর আগে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি এবং ভোটচুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আন্দোলন একাধিকবার জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন শরিক দল একযোগে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রত্যেক যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের তোলা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় এবং সেগুলির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

এই আন্দোলনে কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল। কারণ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধী দলগুলির এক মঞ্চে আসা তাদের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়েরও ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন বিষয়ে শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্তরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

**আন্দোলন চলবে, বার্তা রাহুলের**

পুজোর আগে বিরোধীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে তাঁরা অনড় থাকবেন। বিরোধী শিবিরের তরফে এই অবস্থানকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় একাধিক কর্মসূচিতে বিরোধী নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছিল।

তবে দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ায় আন্দোলনের গতি কিছুটা কমে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ব্যস্ততা এবং উৎসবের আবহে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আপাতত কিছুটা স্তিমিত ছিল। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, উৎসবের বিরতি মানেই আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। বরং পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, কীভাবে বিভিন্ন শরিক দলকে একযোগে আন্দোলনে সামিল করা যাবে এবং কোন দাবিগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

**মমতা-রাহুল-খাড়্গেদের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত?**

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সম্ভাব্য বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত থাকলে বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণে সেই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য পেতে পারে।

বৈঠকে দিল্লিতে ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে কি না, সংসদের ভিতরে ও বাইরে একযোগে প্রতিবাদ চালানো হবে কি না, কিংবা দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জোটের শরিক দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে সামনে রাখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্দোলনের কর্মসূচি, তার সময়সূচি এবং নেতৃত্বের ভূমিকা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, পুজোর বিরতির পর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে বিরোধীদের আন্দোলন ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠক সেই আন্দোলনের পরবর্তী দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন করে কী কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post