রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে জট তৈরি হলে দিল্লি গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা করেই সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করুন। প্রয়োজনে প্রতি মাসে একবার করে দিল্লি যেতে হবে। চার-পাঁচ জন সচিব একসঙ্গে যান। আমি চাই, দ্রুত কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রূপায়ণ হোক। কোনওরকম গাফিলতি বা অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না।’
কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নাম ও আনুষঙ্গিক শর্ত বদল করে ‘ভিবি-জি রামজি’ (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্প চালু করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তিতে পশ্চিমবঙ্গ ১,২৬৪ কোটি টাকা পেয়েছে। পুরো অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা। সূত্রের দাবি, ১ জুলাই এই প্রকল্প চালু হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬২,৫৯৩ শ্রম দিবস তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রায় এক হাজারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের কাজে পিছিয়ে রয়েছে। জবকার্ডধারী গ্রামীণ পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৫০। তাদের মধ্যে কাজ পেয়েছে মাত্র ৪ লক্ষ ৬ হাজার ১১৭ টি পরিবার। অর্থাৎ ৩.১৬ শতাংশ পরিবার কাজ পেয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদে চিত্র খুবই খারাপ। তুলনায় বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমানে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো।
মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পকে সামনে রেখে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলাগুলিকে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু যাঁরা আছেন, তাঁরাই নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না বলে প্রশাসনের নজরে এসেছে। চলতি আর্থিক বছরেই প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় ২৫ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কেন্দ্রীয় সরকার ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১০ লক্ষ ২০ হাজার পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সরাসরি পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে পরিস্কার জানিয়ে দেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সমস্ত অর্ধসমাপ্ত বাড়ির কাজ শেষ করতে হবে। এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণ নিয়ে তিনি নিচুতলায় বিডিও–দের একাংশের উদাসীনতা ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নবান্ন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত সচিবকে তিনি জানিয়ে দেন, যাঁরা কাজ করতে চাইছেন না তাঁদের অন্যত্র বদলি করুন। গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানের কাজের অগ্রগতি নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।