জিলিপিকে ‘ক্লিন চিট’ খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের


ঝাড়গ্রাম: প্যাঁচে প্যাঁচে রস! স্বাদও অনবদ্য। হাড়দার লক্ষ্মীপুজোয় সেই জিলিপির চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। উপচে পড়ে ভিড়। কিন্তু, সেটাই তো আর শেষ কথা নয়। সেই জিলিপির ‘মান’ যাচাইও জরুরি। অতএব, বুধবার সন্ধ্যায় মেলায় যান ঝাড়গ্রাম জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা জিলিপির গুণগত মান, রং, তেল এবং জিলিপি তৈরির পরিবেশ খতিয়ে দেখেন। টেস্ট কিটের মাধ্যমে জিলিপি তৈরির উপকরণের পরীক্ষার পরে হাড়দার লক্ষ্মীপুজোর জিলিপিকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। খুশি ক্রেতা–বিক্রেতা ও পুজো কমিটি।
বিনপুর–২ ব্লকের হাড়দায় গত প্রায় ১৬৪ বছর ধরে একচালায় পূজিত হন লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পুজো উপলক্ষে বসে মেলা। আর সেই মেলায় ‘হটকেক’ জিলিপি। দোকানের সংখ্যা? একটি! তা–ও আবার নিতে হয় নিলামের মাধ্যমে। পুজোর তিন মাস আগেই পুজো কমিটি নিলাম ডাকে। হাড়দারই বাসিন্দা সিন্টু সাহা এ বার ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৬০১ টাকা দিয়ে এ বারের দোকানের বরাত পেয়েছেন।
২৫ অক্টোবর, লক্ষ্মীপুজোর দিন জিলিপির দোকানও চালু হয়। ২১ দিন ধরে ন’টি উনুনে ১৪ জন কারিগর চাল–বিউলির গুঁড়ি ও ময়দার খামি দিয়ে জিলিপি তৈরি করবেন। সিন্টু জানান, গত পাঁচ দিনে প্রায় ১৬৫ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়েছে। ২৫০ থেকে ৩০০ কুইন্টাল জিলিপি বিক্রির টার্গেট রয়েছে।
জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘জিলিপি তৈরিতে কোনও রং বা ভেজাল তেল ব্যবহার করা হচ্ছে না। গুণগত মান ভালো। তবে, যাঁরা জিলিপি তৈরি করছেন তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাথায় ক্যাপ ও হাতে গ্লাভস পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সিন্টুর কথায়, ‘বংশ পরম্পরায় আমরা জিলিপি তৈরি করে আসছি। ভেজাল মেশানোর কথা কল্পনাই করতে পারি না। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ক্লিন চিট দেওয়ায় জিলিপির জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলেই আমাদের আশা।’

Post a Comment

Previous Post Next Post