‘প্রতি মাসে একবার দিল্লি যান’, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে গতি আনতে সচিবদের নির্দেশ নবান্নের



পালাবদলের পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল পাচ্ছে বাংলা। কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ কতখানি তরান্বিত হল, তার উপরে নজর রাখতে এবার সচিবদের কাঁধে দায়িত্ব দিল নবান্ন। লাল ফিতে গেরো কাটিয়ে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের মাসে অন্তত একবার দিল্লি যাওয়ার নির্দেশ দিল নবান্ন (Nabanna)। সেখানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে প্রকল্পের কাজে থাকা বাধা কাটানোর উদ্যোগ নিতে হবে তাঁদের। রাজ্যে যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই চলছে সেগুলোর রিপোর্ট নিয়ে প্রয়োজনে তদারকি করতে হবে দিল্লিতে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং প্রযুক্তিগত ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তার জেরে একাধিক প্রকল্পের কাজ আটকে থাকছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, আগে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ না এগোনোর জন্য কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প হোক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বিষয়, সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু চিঠি বা ই-মেল পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরের সচিবদের দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। কোন প্রকল্পে কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় অনুমোদন আটকে আছে, অর্থ বরাদ্দ বা প্রযুক্তিগত ছাড়পত্র পেতে কী বাধা তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পর আর কোনও পদক্ষেপ না করে বসে থাকলে চলবে না। প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post