আইসিএমআর থেকে উৎকর্ষ কেন্দ্র স্বীকৃতি পিজি-র এন্ডোক্রিনোলজির



গবেষণা থেকে রোগী-পরিষেবা— এন্ডোক্রিনোলজির নানা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি পেল এসএসকেএম হাসপাতাল তথা পিজি-র এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) ‘কোলাবরেটিং সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ (সিসিওই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিভাগটি। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসা–শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম হিসেবে এই সম্মান পেল ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমইআর) বা পিজি হাসপাতালের এই বিভাগ। এর আগে এন্ডোক্রিনোলজির ক্ষেত্রে ভেলোরের ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) এবং ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে ডক্টর মোহনস ডায়াবিটিস সেন্টার এই স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হলো কলকাতার সরকারি প্রতিষ্ঠান।

গত সোমবার পিজি-কে পাঠানো চিঠিতে আইসিএমআর উল্লেখ করেছে, বিভাগের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার সুসংহত কাজ। হরমোনজনিত অসুখ, ডায়াবিটিস এবং বিপাকজনিত সমস্যার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের কারণ, জটিলতা ও প্রতিরোধ নিয়ে গবেষণাও এন্ডোক্রিনোলজির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আইসিএমআর-এর স্বীকৃতিতে বিশেষ ভাবে উঠে এসেছে আণবিক জীববিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল উৎকর্ষে এই বিভাগের অবদান। অর্থাৎ, শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, গবেষণার ফলকে জনস্বাস্থ্যের কাজে লাগানোর প্রচেষ্টাও এই সম্মানের অন্যতম ভিত্তি।

পিজি–র এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবিটিস শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মডেল। এই বিভাগের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে ওঠা ব্যবস্থাটিতে জেলাস্তরে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্য প্রান্তেও শিশুদের ডায়াবিটিসের চিকিৎসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিভাগের কাজ শুধু শিশুদের ডায়াবিটিসে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সের রোগীদের হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবিটিস ও বিপাকজনিত অসুখের চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাও বিভাগের কাজের বিস্তৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত। বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টা, প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সমর্থন।

Post a Comment

Previous Post Next Post