পুজোয় কড়া নিরাপত্তা, মহিলাদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা



নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত ২০ জন পুলিশ আধিকারিক এবং প্রায় ৫০০ জন কনস্টেবল। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হবে র‍্যাফ। মহিলাদের নিরাপত্তায় থাকছে বিশেষ নাকা চেকিং। মহিলারা যাতে নিশ্চিন্তে ঠাকুর দেখতে পারেন, তার জন্য পুজোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ভিড়ের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা রোখা, দুষ্কৃতীদের উপরে নজরদারি এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তৃতীয়া থেকেই জেলায় মোতায়েন থাকবে দুর্গাবাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় মহিলা কনস্টেবলও রাখা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতী এবং অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা রুখতে বিশেষ নজরদারি থাকছে। মহিলাদের সুবিধায় থাকছে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা। মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে শনিবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম ঘোষ-সহ অন্য আধিকারিকরা। পুজোর সময়ে নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রতিটি রাস্তায় নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহিলারা যাতে সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজর থাকবে।’ যাঁরা কোলের বাচ্চাকে নিয়ে পুজো দেখতে বেরোবেন, তাঁরা যাতে বিপাকে না পড়েন সে জন্য কিছু মণ্ডপে ব্রেস্ট-ফিডিং–এর ব্যবস্থা করা হবে। পুজোকে ঘিরে বস্ত্র বিতরণ, গরিব মানুষদের খাওয়ানো থেকে পুজো নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চলেছে জেলা পুলিশ। শনিবার, মহালয়ার দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে পুজোর গাইড ম্যাপ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পুজো যেন সবার আনন্দে কাটে। সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।’ সাধারণ মানুষের প্রতি পুলিশ সুপারের আবেদন, ‘কোথাও কেউ বিপাকে পড়লেই ফোন করবেন’।

পুলিশ সুপার জানান, রাতে মোটরবাইকের দাপাদাপি, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানো রুখতে নজরদারি চালাবে ট্র্যাফিক পুলিশ। এর জন্য মহালয়ার দিন আরও ১৯টি ট্র্যাফিক কিয়স্কের উদ্বোধন করা হয়। রাতে শহরে ১৫৯টি মোটরবাইকের টিম টহল দেবে। ৬৫টি সহায়তা বুথ থাকবে। ৪৩টি পয়েন্টে চলবে নাকা চেকিং। সাইবার ক্রাইম রুখতে ৪৪টি সাইবার ওয়ালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে পুজোর সময়ে। খড়্গপুর ও মেদিনীপুর শহরে যান নিয়ন্ত্রণ শুরু হবে পঞ্চমী থেকে। পুলিশ সুপার জানান, দুপুর তিনটের পরে আর শহরে গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। বাচ্চারা যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য গলায় ঝোলানো থাকবে পরিচয়পত্র। রাখা হচ্ছে কিউআর কোডও। যাতে কোনও দর্শনার্থী কিউআর কোড স্ক্যান করেই সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর, অ্যাম্বুল্যান্স, হাসপাতাল-সহ যাবতীয় তথ্য পান। সপ্তমীতে বিভিন্ন হোম, অনাথ আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ছোট ও বড়দের পুজো দেখানোরও ব্যবস্থা করবে পুলিশ। সঙ্গে দেওয়া হবে নতুন পোশাক। থাকবে খাওয়ার ব্যবস্থা। এ সবের সঙ্গে থাকছে প্রতিযোগিতা। পুজো মণ্ডপের ছবি তুলে আপলোড করতে হবে পুলিশের দেওয়া সাইটে। ভালো ছবি তুললে মিলবে পুরস্কার। এ ছাড়া প্যান্ডেল, প্রতিমা, পরিবেশ—প্রভৃতি ক্ষেত্রে পুজো মণ্ডপকেও পুরস্কৃত করা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post