চার বছর পর রেপো রেট বাড়িয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। মুদ্রাস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতেই বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তবে রেপো রেট বৃদ্ধির পরই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। এক দিকে গাড়ি ও বাড়ির ঋণের সুদ এবং ইএমআই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্য দিকে বিনিয়োগকারীদের একাংশ বাজার থেকে মূলধন তুলে নেওয়ার পথে হাঁটায় বৃহস্পতিবার বড়সড় পতন দেখা গেল ভারতীয় শেয়ার বাজারে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই চাপের মুখে ছিল সেনসেক্স ও নিফটি। দিনের গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পতনের মাত্রা আরও বাড়ে। দুপুর ১টা ৩১ মিনিট নাগাদ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,০৩২.৯৯ পয়েন্ট বা প্রায় ১.৪২ শতাংশ নেমে যায়। দিনের শুরুতে সেনসেক্স ছিল ৭২,৬৬৮ পয়েন্টের আশপাশে। কিন্তু বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় তা নেমে আসে ৭১,৫৫০.৭৬ পয়েন্টে।
শুধু সেনসেক্স নয়, একই ছবি জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটিতেও। দিনের শুরুতে নিফটি ছিল ২২,৫৯৯.০৫ পয়েন্টে। পরে তা ৩৪২.২০ পয়েন্ট পড়ে ২২,২২৮ পয়েন্টের কাছাকাছি নেমে আসে। অর্থাৎ নিফটির পতন প্রায় ১.৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাজারের এই বড় পতনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রেপো রেট বৃদ্ধির সরাসরি এবং পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাজারে। রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। এই হার বাড়লে সাধারণত ব্যাঙ্কগুলির ঋণের খরচ বাড়ে এবং তার প্রভাব বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদে পড়তে পারে। ফলে গাড়ি, বাড়ি-সহ বিভিন্ন ঋণের ইএমআই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংস্থাগুলির উপরেও ঋণের খরচের চাপ বাড়তে পারে। আর সেই আশঙ্কাই বিনিয়োগকারীদের একাংশকে সতর্ক করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সুদের হার বৃদ্ধির ফলে বাজারে ভবিষ্যতে সংস্থাগুলির মুনাফা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনা কতটা প্রভাবিত হবে, সেই বিষয়টিও বিনিয়োগকারীরা হিসাব করছেন।
রেপো রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বাজারের উপর প্রভাব ফেলেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে চাহিদা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ঋণনির্ভর ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের খরচের উপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন দেখা যায় বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত। আচমকা বড় পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বাজারের এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, নাকি সাময়িক ধাক্কার পর ফের ঘুরে দাঁড়াবে শেয়ার বাজার, সে দিকে এখন নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।