গত বছর মেলেনি সবুজ সাথীর সাইকেল! বাঁকুড়ার স্কুলে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের, ঢুকতে পারলেন না শিক্ষকেরা


বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সবুজ সাথীর সাইকেল। সেই ক্ষোভেই বৃহস্পতিবার স্কুলের মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হল বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লকের জপমালি দেশবন্ধু হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শতাধিক পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, গত বছর নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়ারা সবুজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল পেলেও তাঁরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বার বার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও অভিভাবকদের।
বিক্ষোভের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে কার্যত অচল হয়ে পড়ে স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন। স্কুলের প্রধান দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে অবস্থান শুরু করেন পড়ুয়ারা। ফলে স্কুলে এসে ঢুকতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের মতোই বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লকের জপমালি দেশবন্ধু হাইস্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়াদেরও সবুজ সাথী প্রকল্পের আওতায় সাইকেল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ওই স্কুলের পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল পৌঁছয়নি। অথচ একই সময়ে জেলার অন্যান্য স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, সাইকেল না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা একাধিক বার স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুধু পড়ুয়ারাই নন, তাঁদের অভিভাবকরাও স্কুলে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণ দেখিয়ে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরে সাইকেল দেওয়া হবে বলে আশ্বাস মিললেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
এখন সেই পড়ুয়ারাই দশম শ্রেণিতে উঠেছেন। এক বছর কেটে যাওয়ার পরও সাইকেল না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে তাঁদের মধ্যে। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন।
পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল তাঁদের কাছে শুধু একটি উপহার নয়, স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যন্ত এলাকার বহু পড়ুয়া দূরদূরান্ত থেকে স্কুলে আসে। তাঁদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। ফলে এক বছর ধরে সাইকেল না পাওয়ায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলেও দাবি পড়ুয়াদের।
বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে দশম শ্রেণির শতাধিক পড়ুয়া অংশ নেয় বলে জানা গিয়েছে। স্কুলের প্রধান দরজায় তালা লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালীন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, গত বছর অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়ারা সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল পেলেও কেন জপমালি দেশবন্ধু হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেন? প্রশাসনিক কোনও জটিলতার কারণে সাইকেল আটকে রয়েছে, নাকি স্কুলের তরফে কোনও গাফিলতি হয়েছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই বৃহস্পতিবারের এই বিক্ষোভ বলে দাবি পড়ুয়াদের। এখন তাঁদের দাবি, দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রত্যেক যোগ্য পড়ুয়ার হাতে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল তুলে দিতে হবে। এক বছর পর স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে পড়ুয়াদের এই আন্দোলনের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই নজর স্থানীয়দের।

Post a Comment

Previous Post Next Post