ইন্দ্রনীল-তদন্ত: এলইডি স্ক্রিন নিয়েও নয়ছয়?


'ইউনেস্কো'র নাম ভাঁড়িয়ে শুধু দুর্গাপুজোর পাসেই নয়, আর্থিক অনিয়ম হয়েছিল মণ্ডপের বাইরে লাগানো এলইডি স্ক্রিন এবং তাতে সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপন নিয়েও। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে আর্থিক প্রতারণা এবং টাকা তছরুপের অভিযোগে গত বুধবার ইন্দ্রনীলকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। যে নির্দিষ্ট ২৪টি পুজোর প্রিভিউ শো-এর জন্য 'ইউনেস্কো'র নাম ভাঙিয়ে ডোনার পাস বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তার টেন্ডারেও গরমিলের তথ্য সামনে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। ইন্দ্রনীল পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ তিন কোম্পানিকে টেন্ডার দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এখন দেখা যাচ্ছে ২৪টি মণ্ডপের বাইরে এইডি স্ক্রিনে মহালয়া থেকে টানা ১২ দিন বিজ্ঞাপন চলত, সেখানেও নানা গরমিল রয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগকারী-সহ কয়েক জনের বয়ান রের্কড করেছে লালবাজার। পুলিশ সূত্রের খবর, মন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর দপ্তর থেকে ইন্দ্রনীল তিন ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে এলইডি স্ক্রিনগুলির টেন্ডার দিতেন বলে অভিযোগ। সেই তিন সংস্থা আবার অন্য এক সংস্থাকে সে বরাত দিত, যাতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ওই স্ক্রিনে চলে। কোন মণ্ডপে, কোন বিজ্ঞাপন কতক্ষণ চলবে, তা এই সংস্থাটিই ঠিক করত। এ জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে মোটা টাকা নেওয়া হতো। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে হাত বদলে ওই বিজ্ঞাপনের টাকা আসত ইন্দ্রনীল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মণ্ডপের বাইরে গেটের কাছে এলইডি বোর্ডের জন্য পুজোর উদ্যোক্তা ক্লাবগুলিকে দেওয়া হতো দেড় থেকে দু'লক্ষ টাকা। অভিযোগ, এ ভাবেই মুনাফার মোটা অংশ চলে যেত ইন্দ্রনীল বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে।
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, 'মণ্ডপের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে বেসরকারি সংস্থার বিজ্ঞাপন যদি ২৫ শতাংশ চলত, তা হলে বাকিটা থাকত সরকারি বিজ্ঞাপন। উদ্যোক্তারা মুখ বুজে সবই সহ্য করতে বাধ্য হতেন। স্ক্রিনের বিজ্ঞাপনের টাকা ঘুরপথে ইন্দ্রনীল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে পৌঁছত। এখান থেকেও মোটা টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইন্দ্রনীল ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা।' এ বিষয়ে ইন্দ্রনীলের আইনজীবী বলেন, 'সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।' অভিযোগকারীর পাশাপাশি ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর বয়ানও রের্কড করেছেন তদন্তকারীরা। এ বার ইন্দ্রনীলের অন্য আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তাঁরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post