# শিবাকে বিবস্ত্র করে মারধর, আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে! লখনউয়ের ক্যাফে মালিকের মৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শিবার মৃত্যুর নেপথ্যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা দুবের বিরুদ্ধে। শুধু শ্রদ্ধাই নন, এই ঘটনায় তাঁর বোন রশ্মি, গাড়িচালক আদিল এবং শ্রদ্ধার প্রেমিক আমিরের নামও উঠে এসেছে তদন্তে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিবাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হত। এমনকি তাঁর আপত্তিকর ছবি তুলে তা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও উঠেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শিবাকে ভয় দেখিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতেন শ্রদ্ধা। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সামনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হত তাঁকে। অভিযোগ, একাধিকবার শিবাকে অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে তাঁর ছবি তোলা হয়। সেই ছবিগুলিকে হাতিয়ার করেই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভয় দেখানোর ক্ষেত্রেও শিবাকে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শিবাকে হেনস্থার ঘটনায় শ্রদ্ধার বোন রশ্মি, গাড়িচালক আদিল এবং আমিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, তাঁদের সামনেই শিবাকে বিবস্ত্র করেন শ্রদ্ধা। তাঁর শরীরে লিপস্টিকের দাগ লাগিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের। শুধু ছবি তোলাই নয়, তাঁকে অপমান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের আচরণ করতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রত্যেকের পৃথক ভূমিকা এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
শিবার মৃত্যুর দিনই কি এই ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল? নাকি তার আগেও দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই হেনস্থা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সময়কাল এবং নির্যাতনের প্রকৃত পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শিবার উপর কয়েক ঘণ্টা ধরে অত্যাচার চালানো হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অন্যদের সামনে তাঁকে নাচতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।
জেরায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, শিবা সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তাঁকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করানো হত। শিবার ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিস্থিতির উপরও শ্রদ্ধার নিয়ন্ত্রণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, শিবার আপত্তিকর ছবি তুলে তাঁকে ভয় দেখানো এবং ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। শিবার সঙ্গে শ্রদ্ধার সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক কেমন ছিল? লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর উপর এমন নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে? এই ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। শিবার সঙ্গে শ্রদ্ধার সম্পর্কের বাইরে আমিরের ভূমিকা কী ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিবার উপর নির্যাতনের অভিযোগ কতদিন ধরে চলছিল, আপত্তিকর ছবিগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হত, মৃত্যুর দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং এই ঘটনায় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা কতটা—তার উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যু এখন একাধিক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নিয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তে আরও গুরুত্ব বেড়েছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে সেগুলির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।