খারাপ পারফরম্যান্সের শাস্তি? আচমকাই বন্ধ কেন্দ্রীয় অনুদান, বিদেশে চরম অর্থাভাবে সিন্ধুরা


# খারাপ পারফরম্যান্সের শাস্তি? আচমকাই বন্ধ কেন্দ্রীয় অনুদান, বিদেশের মাটিতে চরম অর্থসংকটে পিভি সিন্ধুরা!

বিদেশের মাটিতে একের পর এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকারা। লক্ষ্য একটাই, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। কিন্তু সেই লড়াইয়ের মাঝেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে আচমকাই আর্থিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় শাটলারদের। অভিযোগের তির স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)-এর দিকে। অলিম্পিকে জোড়া পদকজয়ী পিভি সিন্ধুর মতো প্রথমসারির খেলোয়াড়দেরও নাকি বিদেশের মাটিতে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে খেলোয়াড়দের?

জানা গিয়েছে, ভারতের একঝাঁক ব্যাডমিন্টন তারকার পরপর কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সেই সূচি অনুযায়ী ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে টুর্নামেন্ট খেলতে যান ভারতীয় শাটলাররা। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ সফর, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যাবতীয় ব্যয় সামলাতে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভর করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, সফর চলাকালীনই আচমকা সেই আর্থিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিদেশে গিয়ে কার্যত চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে খেলোয়াড়দের।

এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রতিযোগিতায় মনোযোগ দেওয়াই নয়, সফরের খরচ সামলানো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। একজন আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়ের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক স্থিরতা। তার উপর বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেলে অতিরিক্ত খরচও থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মাঝপথে আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং পারফরম্যান্সের উপর পড়তে পারে বলেই মনে করছেন ক্রীড়ামহলের একাংশ।

তবে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও কোর্টে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ভারতীয় শাটলাররা। রবিবার জার্মানিতে হাইলো ওপেনের ফাইনালে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন পিভি সিন্ধু। ডেনমার্কের লাইন কেয়ার্সফেল্টকে স্ট্রেট গেমে হারিয়ে খেতাব জিতে নেন ভারতের তারকা শাটলার। অলিম্পিকে দু'বার পদকজয়ী সিন্ধুর এই জয় নিঃসন্দেহে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য বড় প্রাপ্তি। শুধু তাই নয়, সিন্ধুর জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই প্রতিযোগিতার পুরুষদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ভারতের লক্ষ্য সেন। ফলে জার্মানির মাটিতে জোড়া খেতাব জিতে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগান দুই তারকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সদ্যসমাপ্ত এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দলের পারফরম্যান্স একেবারেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একাধিক তারকা শাটলার দলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক এসেছিল ভারতের ঝুলিতে। সেই ফলাফল ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই হতাশা তৈরি হয়েছিল ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ক্রমবর্ধমান শক্তির সঙ্গে এশিয়াডের ফলাফল যেন কিছুটা বেমানান ছিল।

তবে এশিয়াডের সেই হতাশা কাটিয়ে ইউরোপ সফরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ভারতীয় শাটলাররা। সিন্ধু এবং লক্ষ্য সেনের মতো তারকাদের সাফল্য সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যখন খেলোয়াড়রা কোর্টে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তখন তাঁদের আর্থিক সহায়তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এবার মূল প্রশ্ন, কেন আচমকা বন্ধ হল কেন্দ্রীয় অনুদান? খেলোয়াড়দের খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে কি এই সিদ্ধান্ত, নাকি প্রশাসনিক কোনও জটিলতার জেরেই আটকে গিয়েছে আর্থিক সাহায্য? বিষয়টি নিয়ে সাইয়ের অবস্থান কী, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রীড়ামহলে। কারণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

একজন খেলোয়াড়ের সাফল্যের পিছনে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলন এবং আত্মত্যাগ থাকে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিতলে সেই সাফল্যের কৃতিত্ব গোটা দেশের। কিন্তু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে যদি খেলোয়াড়দের নিজেদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়, তা হলে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সিন্ধুর মতো অভিজ্ঞ এবং পদকজয়ী খেলোয়াড়দেরও যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সমস্যার আশঙ্কা আরও বাড়ে।

সব মিলিয়ে, বিদেশের মাটিতে ভারতীয় শাটলারদের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা বন্ধের অভিযোগ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কোর্টে সিন্ধু-লক্ষ্যদের জয় যেমন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের দ্রুত উত্তর চান ক্রীড়াপ্রেমীরা। এখন দেখার, এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাই কী পদক্ষেপ করে এবং বিদেশে খেলতে যাওয়া ভারতীয় শাটলারদের আর্থিক সমস্যার সমাধান কত দ্রুত হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post