দেশের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য বিদেশ থেকেও আসতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আউট্রাম ঘাট থেকে এই মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশ-বিদেশের পূণ্যার্থীদের কাছে সমস্যা একটাই— ভাষা। সেই সমস্যা দূর করতে এ বার যথেষ্ট সংখ্যক দোভাষীর ব্যবস্থা করছে রাজ্য। মেলার সূচনা করে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদের নাম রাখা হচ্ছে ‘সাগর-বন্ধু’ বা ‘সাগর দোস্ত’। মমতা জানান, সম্ভব হলে পূণ্যার্থীদের বাসগুলিতে এক জন করে সাগর-বন্ধু রাখা হবে। দোভাষীর কাজ করার পাশাপাশি এরা পূণ্যার্থীদের অন্যান্য সমস্যাতেও সাহায্য করবেন। এর বাইরে এ বার মেলা জুড়ে থাকছে অসংখ্য ‘মে আই হেল্প ইউ’ কিয়স্ক। সেখান থেকেও মিলবে সাহায্য।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, গত বছর গঙ্গাসাগরে এসেছিলেন ১ কোটির বেশি পূণ্যার্থী। এ বার সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন পূণ্য সঞ্চয়ের আশায়। এদের মধ্যে এক বিপুল সংখ্যক মানুষ হিন্দিভাষী। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকেও আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী। এঁরা বাংলা বোঝেন না বলতেও পারেন না।
মূলত তাঁদের সমস্যা দূর করতেই রাখা হচ্ছে সাগর-বন্ধু। দোভাষী আগেও ছিল। কিন্তু তার সংখ্যা হাতে গোনা। কেবলমাত্র একটি বা দু’টি জায়গায় তারা থাকতেন। এ বার সেই সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। এ দিন গঙ্গাসাগর তীর্থ যাত্রী সংযুক্ত সমিতির সভাপতি তারকনাথ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম, যাতে মে আই হেল্প ইউ বুথ তৈরি করা যায়। এ বার পুরো পথ এবং মেলা প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রী এমন অসংখ্য বুথ তৈরি করে দিয়েছেন।’