ঘুম মানুষকে বিশ্রাম দেয়, শরীর ও মনকে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু ঘটনা সামনে আসছে, যেখানে মানুষ ঘুমোতে গিয়ে আর জেগে উঠছেন না। সম্প্রতি জনপ্রিয় গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে এই প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনও পুরোপুরি বোঝা না গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিরল নয়। বহু মানুষ যাঁদের নিজেকে একেবারে সুস্থ বলে মনে হয়, তাঁরাও রাতের ঘুমের মধ্যেই হৃদ্যন্ত্রের আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার শিকার হচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময় আমাদের শরীর এক বিশেষ অবস্থায় চলে যায়। প্যারাসিমপ্যাথেটিক সিস্টেম রাতে সক্রিয় হয়, যার ফলে হৃদ্স্পন্দন ধীর হয় এবং শরীর বিশ্রামের মোডে চলে যায়। এই সময় হৃদ্যন্ত্রের ভেতরে বৈদ্যুতিক সিগনালের গতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও, যাঁদের হৃদ্যন্ত্রের ছন্দে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে খুব ধীর বা খুব দ্রুত হার্টবিট শুরু হলে মারাত্মক অ্যারিদমিয়া দেখা দিতে পারে এবং তার ফলেই হৃদ্যন্ত্র থেমে যেতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হৃদ্রোগের আরেকটি বড় কারণ হল স্লিপ অ্যাপনিয়া। এই সমস্যায় ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার শুরু হয়। এর ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, যা হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অনেক মানুষ নিয়মিত নাক ডাকেন, কিন্তু বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন অজানা অবস্থায় থাকলে এই সমস্যা হৃদ্যন্ত্রের ছন্দকে অস্থির করে তোলে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেক ক্ষেত্রে রাতে নীরব হার্ট অ্যাটাকও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। হৃদ্যন্ত্রের ধমনীতে জমে থাকা প্ল্যাক সব সময় বিপজ্জনক মনে না-ও হতে পারে। কিন্তু ভোরের দিকে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যায়। এই চাপের কারণে অস্থির প্ল্যাক ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা হঠাৎ করে ধমনী বন্ধ করে দেয়। ঘুমের গভীরে থাকায় রোগী কোনও ব্যথা বা অস্বস্তি টের পান না, আর তার ফলেই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াও ঘুমের মধ্যে হৃদ্যন্ত্র থেমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। পটাশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বিঘ্নিত হয়। অতিরিক্ত মদ্যপান, ডিহাইড্রেশন বা কিছু ওষুধের প্রভাবে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা তাই ঘুমের আগে অ্যালকোহল পান করতে একেবারেই বারণ করেন।