উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার থরালি তেহশিলে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি হওয়ার আগে, ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল উত্তরকাশী জেলায়। গত ৫ অগস্ট হড়পা বান আসে উত্তরাখণ্ডের এই জেলায়। ক্ষীর গঙ্গা নদীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ধরালি- র প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে কাদার স্রোত নামছে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে। পুরু কাদার স্তর এবং পাথর-বোল্ডারের তলায় চাপা পড়েছে ধরালির একাধিক হোটেল, হোমস্টে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে পর্যটকদের জন্য ধরালি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। গঙ্গোত্রী যাত্রার পথে অনেকেই এখানে থামেন। বিশ্রামের জন্য থাকেন। তারপর আবার রওনা দেন। ধরালিতে যে ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল, তার অনেকটাই প্রভাব পড়েছিল পড়শি এলাকা হরশিলে। সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প ভেসে গিয়েছে বন্যায়। একাধিক ঘরবাড়ি চোখের নিমেষে তলিয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রচুর মানুষের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এমন আচমকা বিপর্যয় এসেছে যে পালিয়ে বাঁচার সুযোগটুকুও পাননি বেশিরভাগ মানুষ।
এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, ভারতীয় সেনাবাহিনী একত্রিত হয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জেলায়। তবে সমস্যা হচ্ছে, একদিকের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই, আরেকদিকে বিপর্যয় ঘনিয়ে আসছে। এর মাঝেই আবহাওয়া দফতর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য উত্তরাখণ্ডের বেশ কয়েকটি জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বাগেশ্বর, চামোলি, দেরাদুন এবং রুদ্রপ্রয়াগে। এইসব জেলায় লাল সতর্কতা অর্থাৎ রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য। অন্যদিকে, আইএমডি- র তরফে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে চম্পাওয়াত, হরিদ্বার, পিথোরগড়, উধম সিং নগর এবং উত্তরকাশী জেলায়।