প্রবল কম্পনে দুলে উঠল পৃথিবী! মৃত্যুমিছিলে হাহাকার, বুকফাটা কান্না, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে চেনা মুখের সন্ধান


ভয়াবহ কম্পনে দুলে উঠল পৃথিবী! মৃত্যুমিছিলে হাহাকার... কেঁপে উঠল দিল্লিও। প্রবল আতঙ্কে ঘর ছাড়া মানুষজন। 

গভীর রাতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের বিস্তৃর্ণ অংশ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৩। প্রথম ধাক্কা অনুভূত হয় রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে। এরপর টানা একাধিকবার আফটারশক আঘাত হানে। ভূমিকম্পের প্রভাবে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরের একাধিক ভবন কেঁপে ওঠে, আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কম্পন অনুভূত হয় পাকিস্তান, ভারত, বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআর, জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশেও। হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠায় দিল্লির অফিস, বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিকভাবে ভারতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০-এ। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স-এ পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি প্রদেশে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজে নেমেছে এবং কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রদেশ থেকেও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে একাধিক কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে—১২:৪৭ মিনিটে ৬.৩, রাত ১:০৮-এ ৪.৭, রাত ১:৫৯-এ ৪.৩, ভোর ৩:০৩-এ ৫ এবং সকাল ৫:১৬-এ আরও একটি ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটির ১৬০ কিলোমিটার গভীরে।

উল্লেখ্য, এর আগেও আফগানিস্তানে বড় বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় আফগানিস্তানে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই ঘটে থাকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post