শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিহারে এনডিএ-এর বিশাল জয়ের পর বলেন, এই জয় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পথপ্রদর্শক হবে, “যেমন গঙ্গা নদী বিহারের মাধ্যমে বাংলায় প্রবাহিত হয়।” পাশাপাশি তিনি বিহারের মত বাংলায় জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলারও ডাক দেন। মোদীর এই মন্তব্যের পরই মুখ খুললেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'বিহারের মত বাংলা দখল করার পর্যায়ে এখনই নেই বিজেপি'।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধরী বলেন, "বিহারের ফলাফল নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। আমি যেটুকু বলতে পারি ওখানে দলের সংগঠনটা দুর্বল ছিল। রাহুল গান্ধী বিরাট হাওয়া তুলেছিল। কিন্তু সেটাকে ব্যালট বক্স পৌঁছানো পর্যন্ত যে পরিকাঠামো দরকার তা আমাদের ছিল না"।
নীতীশের সাফলের প্রশ্নে অধীর চৌধুরী বলেন, "নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে বিহারের মানুষের মধ্যে কোন ক্ষোভ নেই। ওনার স্বচ্ছ্ব ভাবমূর্তি রয়েছে। উনি পল্টু কমার হতে পারেন কিন্তু উনি দুর্নীতি কুমার নয়"। সেই সঙ্গে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে কমিশনকে তুলোধোনা করেন অধীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন খোলাখুলি ভাবে সরকারকে মদত করেছে। ভোটে হারজিত আলাদা ব্যাপার। কিন্তু কমিশনের মত সংস্থা এভাবে অসাংবিধানিক কাজ করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের মোদীর ভয়ঙ্কর হুঙ্কার প্রসঙ্গে অধীর বলেন, "NCRB রিপোর্ট বলছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি অপরাধ উত্তরপ্রদেশ, তারপর বিহার। বিহারে জঙ্গলরাজের যে যুক্তি খাঁড়া করছে সেটাই শেষ কথা নয়। শুধুমাত্র সেটাই জয়ের মাপকাঠি নয়। বাংলায় সারা বছর জুড়ে সন্ত্রাস হচ্ছে। ধর্ষণ, খুন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা একথা বলতেই পারে। বাংলায় এখনও পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও জাতপাতের রাজনীতির অস্তিত্ব নেই। সুতরাং বিজেপি মনে করলেই বাংলা দখল করার জায়গায় গেছে বলে আমি মনে করিনা"।