দিল্লি বিস্ফোরণ: ডালখোলা থেকে আটক চিকিৎসককে ছেড়ে দিল NIA, স্বস্তিতে পরিবার


গত শুক্রবার উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলার বাড়ি থেকে চিকিৎসক জানিসার আলম ওরফে জিগারকে আটক করে নিয়ে যায় এনআইএ ৷ শনিবার সন্ধেয় তাঁকে ছেড়ে দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ পরিবারের দাবি, দিল্লিতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ-কাণ্ডে অভিযুক্ত এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসূত্র মেলায় তাঁকে আটক করে নিয়ে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা ৷

এ নিয়ে জানিসার আলমের কাকা আবদুল কাসিম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে এনআইএ-র আধিকারিকরা তাঁর ছেলেকে ফোন করেছিলেন, অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষর করে শিলিগুড়িতে এনআইএ-র অফিসে গিয়ে জানিসার আলমকে নিয়ে আসার জন্য ৷ শনিবার সন্ধেবেলা জানিসারকে নিয়ে ডালখোলার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা ৷

আবদুল কাসিম বলেন, "আমার ভাইপো জানিয়েছে, এনআইএ-র আধিকারিকরা যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করেছেন ৷ তাঁকে যা-যা প্রশ্ন করেছেন আধিকারিকরা, তার জবাব দিয়েছেন ৷ আধিকারিকরা সন্তুষ্ট হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৷ আমি আগেও বলেছিলাম, সঠিকভাবে তদন্ত হলে আমার ভাইপো নির্দোষ প্রমাণিত হবে ৷ বোঝাই যাচ্ছে, তদন্ত সঠিকভাবেই হয়েছে ৷"

কিন্তু, দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে হঠাৎ জানিসার আলমকে কেন তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন NIA আধিকারিকরা ! এর জবাবে কাসিম বলেন, "আমার ভাইপো হরিয়ানার আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি থেকে ডাক্তারি পড়েছে ৷ এনআইএ অফিস থেকে বেরিয়ে ফোনে ও জানিয়েছে, ওঁর সঙ্গে পড়াশোনা করা একটি ছেলেকে দিল্লি ব্লাস্টের ঘটনায় গ্রেফতার করেছে এনআইএ ৷ তাঁর সঙ্গে জানিসার একবছর আগে ফোনে কথা বলেছিল ৷ কেন কথা বলেছিল, কী কথা হয়েছিল, সেই সব তথ্য জানতে চেয়েছে ৷"

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে জানিসারের বাবা তৌহিদ আলম পরিবার নিয়ে লুধিয়ানায় চলে গিয়েছিলেন ৷ সেখানে এক হাতুড়ে ডাক্তারের সঙ্গে কাজ করতেন‌ তিনি ৷ জানিসার 2024 সালে হরিয়ানার আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাশ করেন ৷ গত রবিবার তিনি চণ্ডীগড় গিয়েছিলেন এমডি-র পরীক্ষা দিতে ৷ সেখান থেকে 12 নভেম্বর, বুধবার গ্রামের বাড়িতে আসেন পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৷ তারই মধ্যে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং 14 নভেম্বর গোয়েন্দারা জানিসারকে আটক করে নিয়ে যান ৷ তবে, শনিবার তাঁকে ছেড়েও দিয়েছেন গোয়েন্দারা ৷

উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে হরিয়ানার আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির ধৃত 4 জন চিকিৎসকের ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বা এনএমসি ৷ এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল আহমেদ এবং শাহিন শহিদ এই আল ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত ছিলেন ৷

তবে, শুধু এই দু’জন নয় ৷ শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে ধৃত আদিল মাজিদের সঙ্গেও যোগ রয়েছে এই আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির ৷ দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর-উন-নবিও আল ফালাহর সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে ৷ স্বাভাবিকভাবেই ফরিদাবাদের এই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এখানে ডাক্তারি পড়া ও পাশ করা সকলেই কার্যত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন ৷ ইউনিভার্সিটির আর কোনও চিকিৎসক কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

Post a Comment

Previous Post Next Post