গলায় স্টেথোস্কোপ, হাতে বন্দুক-বিস্ফোরক, হোয়াইট কলার টেরর মডিউলের নেপথ্যে এই দুই চিকিৎসক ভাইবোন?


সকাল হোক বা সন্ধ্যা, লখনউয়ের খান্দারি বাজারে ভিড় লেগেই থাকে। সেখান থেকে দু’পা হাঁটলেই সরু গলি। তার মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা তিনতলা বাড়ি। বাইরে কাঠের দরজা, লোহার গ্রিল। সব বন্ধ। গত তিন দিন ধরে বাড়ির সামনে থিকথিক করছে পুলিশ আর মিডিয়া। তার কারণও রয়েছে। এই বাড়িটিই ফরিদাবাদ বিস্ফোরক উদ্ধার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত শাহিন শাহিদ আনসারি এবং তাঁর ছোট ভাই পারভেজ আনসারির। শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পারভেজ আটক পুলিশের হাতে।

হলুদ তিনতলা বাড়ির সামনে সর্বক্ষণের জন্য মোতায়েন রয়েছে এক মহিলা কনস্টেবল-সহ দু’জন পুলিশকর্মী। বাড়িতে শাহিদ, পারভেজের পরিবারের সদস্যরা এখনও থাকেন। তবে খুব একটা বের হন না। তেমনই দাবি পুলিশ কর্মীদের। সাদা পোশাকের এক কনস্টেবলের কথায়, ‘বাড়ির লোকজন খুব একটা বের হন না। গেটও খোলেন না।’ বাড়িতেই থাকেন শাহিন, পারভেজের দাদা মহম্মদ শোয়েব। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনিই বড়। এরকম কিছু যে ঘটতে পারে এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তাঁর।

শাহিনের বাবা সৈয়দ আহমেদ সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। এখন অবসর নিয়ে বাড়িতেই থাকেন। তিন ছেলেমেয়েকেই চিকিৎসক করতে চেয়েছিলেন তিনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাদা শোয়েব বললেন, ‘বাবা চেয়েছিলেন, আমিও ডাক্তার হই। কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্রে আমার কোনও আগ্রহ ছিল না। তাই শাহিন আর পারভেজকে মন দিয়ে পড়িয়েছিলেন বাবা। কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা ডাক্তারি পাস করেন। কিন্তু এ রকম কিছু হতে পারে ভাবতে পারিনি।’

শোয়েব পেশায় প্রাইভেট টিউটর। বাড়িতেই পড়ান। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁর কথায়, ‘ব্যক্তিগত কারণে শাহিন আর পারভেজের সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। বাড়িতেও আর আসে না। শাহিনের সঙ্গে তো বহুদিন কথাও হয়নি। কোথায় থাকে, কী করে, কিছুই জানতাম না।’ বাড়ির সামনেই লালবাগ গার্লস ইন্টার কলেজ। শাহিন সেখানেই ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়েছেন। তার পরে স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এমবিবিএস করেন। পারভেজ লখনউয়ের একটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়েছেন। দু’জনে কয়েক বছর বিদেশেও ছিলেন। শোয়েবের কথায়, ‘২০১৩-১৪ নাগাদ শাহিন সৌদি আরবে যায়। সম্ভবত কাজের খোঁজে। ২০১৬-তে মলদ্বীপ গিয়েছিল পারভেজ। পরে অবশ্য দু’জনের দেশে ফিরে আসে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post