কার নির্দেশে কোথা থেকে আচমকা আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি: তথ্য ফাঁস কুণালের


কয়লা মামলার অজুহাতে আড়াই বছর পরে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান। আদতে নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও প্রতিহিংসার রাজনীতির চেষ্টায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এগিয়ে দেওয়ার রাজনীতি বিজেপির স্বৈরাচারী কেন্দ্রের সরকার করে এসেছে। এভাবেই হরিয়ানা, দিল্লি, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র তারা দখল করে এসেছে। সেই একই নীতি বাংলাতে চালাতে এসেই হোঁচট খেল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। বারবার যে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানকে সংস্থাগুলির তদন্তের স্বার্থে অভিযান বলে দাবি করে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা, তা যে সরাসরি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারাই পরিচালিত হয়, বৃহস্পতিবারের ইডির তল্লাশিতে (ED raid) তা স্পষ্ট হয়ে গেল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকের পরেই যে ইডি (ED) এই তল্লাশি অভিযানে নেমেছিল, গোপণ মেসেজ তুলে ধরে তা প্রমাণ করে দিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চ্যাটের অংশ তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনী? সূত্র মারফৎ পাওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের এই মেসেজ সত্য হলে চক্রান্তের পুরোপুরি তদন্ত দরকার। আশা করি পুলিশের তদন্তকারীরা দেখবেন। ইডির (ED) গতিবিধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (MHA) অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত? প্রশ্নটা উঠছে। খতিয়ে দেখা দরকার। সত্য হলে মারাত্মক।

ওই মেসেজে লেখা দেখা যায়, এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে জানাচ্ছেন ১৩ সদস্যের ইডি-র একটি আধিকারিকদের দল দুটি বিমানে কলকাতায় পৌঁছবেন, যাঁদের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (assistant director) ও ডেপুটি ডিরেক্টর (deputy director) পদমর্যাদার আধিকারিকরা থাকবেন। যে বিমানে তাঁরা আসেছিলেন তার নম্বর উল্লেখ করে জানানো হচ্ছে, একজন আসবে মহারাষ্ট্র থেকে। অন্য এক সাইবার বিশেষজ্ঞ যাঁর নাম গুলশন রাই, তিনি আগেই কলকাতা পৌঁছে গিয়েছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক সাকেত কুমারের সঙ্গে সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO complex) আগেই তাঁদের বৈঠক হয়ে গিয়েছিল।

সেখানেই কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ইংরাজিতে লেখা মেসেজে উপরে ‘দাদা’ শব্দটি লেখা। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এতে প্রতিফলিত হয়। সূত্র মারফৎ এই বার্তালাপের তথ্য উঠে এসেছে। এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু যদি এটি সত্যি হয় তবে অবশ্যই পুলিশের এনিয়ে তদন্ত করা উচিত।

Post a Comment

Previous Post Next Post