আটার লাইনে মারামারি, পেট্রোলের দাম আকাশছোঁয়া, বারবার কড়া নাড়তে হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর দরজায়— এটাই পাকিস্তানের অর্থনীতির চেনা ছবি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা দেখলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। যে দেশ যখন তখন দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে রয়েছে, তারাই কি না এখন আরব দুনিয়ার অন্যতম বড় ‘অস্ত্র বিক্রেতা’ হয়ে উঠছে!
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, খবর কিন্তু পাকা। লোহিত সাগরের ওপারে সুদানের গৃহযুদ্ধে এ বার নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। শুধু সুদান নয়, সৌদি আরব থেকে লিবিয়া— আরব মুলুকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে পাকিস্তানি সমরাস্ত্র। ভারতের প্রতিবেশী দেশের এই ভোলবদল কি নিছকই বাঁচার তাগিদ, নাকি এর পিছনে রয়েছে চিনের এক গভীর চাল? কপালে ভাঁজ বাড়ছে নয়া দিল্লির।
সুদানে ‘মেড ইন পাকিস্তান’
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রায় দেড়শো কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে পাকিস্তান। গত তিন বছর ধরে গৃহযুদ্ধের আগুনে জ্বলছে সুদান। সেখানে আধাসামরিক বাহিনী, RSF-কে ঠেকাতে এ বার পাকিস্তান থেকে সুদান সরকার কিনছে ফাইটার জেট ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র।
শুধু সুদানই নয়, খবর মিলছে যে সৌদি আরবও নাকি পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে ইসলামাবাদ।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার একাধিপত্যের উপরে যখন কালো মেঘ দেখা দিয়েছে, ঠিক সেই সুযোগেই ফাঁক গলে ঢুকে পড়ছে পাকিস্তান।
তুরুপের তাস: চিনা প্রযুক্তির জেএফ-১৭
পাকিস্তানের এই হঠাৎ ‘অস্ত্রের সওদাগর’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে একটি বিশেষ যুদ্ধবিমান— ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’। বিমানটি পাকিস্তানের তৈরি বলা হলেও, এর আসল কারিগর চিন। চিনের ‘চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন’ এবং ‘পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই বিমানটিকেই পাকিস্তান এখন ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে ফেরি করছে।
মজার (এবং ভারতের জন্য চিন্তার) বিষয় হলো পাকিস্তানের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। তারা ক্রেতা দেশগুলিকে বলছে, এই বিমান ‘ব্যাটল টেস্টেড’ বা যুদ্ধে পরীক্ষিত। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৫-এ অপারেশন সিঁদুরের সময়ে ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যে সংঘাত হয়েছিল, তাতে নাকি এই বিমান বা সমমানের চিনা প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানগুলি ইসলামাবাদকে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।
যদিও ভারত এই দাবি বারবার উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সস্তায় পুষ্টিকর যুদ্ধবিমানের খোঁজে থাকা আফ্রিকার দেশগুলির কাছে এই প্রচার বেশ কাজে দিচ্ছে। আজ়ারবাইজান, নাইজেরিয়া এমনকী এশিয়ায় মায়ানমারের মতো দেশও ইতিমধ্যেই এই বিমান ব্যবহার করা শুরু করেছে।