ওড়িশার রাউরকেলা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান জরুরি অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। এই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মোট ৬জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, ভুবনেশ্বর থেকে রাউরকেলাগামী ৯ আসন বিশিষ্ট ওই বিমানটি টেকঅফের প্রায় ১০ কিলোমিটার পর দুর্ঘটনায় পড়ে। বিমানের নির্ধারিত অবতরণের সময় ছিল দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। তবে গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই রাউরকেলার জলদা এলাকার কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে বিমানটি। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে চারজন যাত্রী এবং দু’জন ক্রু মেম্বার ছিলেন।
দুর্ঘটনায় দু’জন পাইলটসহ ছ’জনই আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাইলটের অবস্থা তুলনামূলকভাবে গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দমকল বাহিনীর তিনটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করে। দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কাজ চালানোয় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি খুবই নিচু দিয়ে উড়ছিল এবং জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। আচমকা এই দৃশ্য দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, তাঁরা এর আগে কখনও এত নিচু দিয়ে উড়তে থাকা বিমান দেখেননি। কিছু দূর এগোনোর পরই বিমানটি ভেঙে পড়ে।
ঘটনার পর বিমান দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক রুটে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আশপাশে গাছপালা থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে। তাঁদের আশঙ্কা, বিমানটি যদি গাছের উপর পড়ত, তাহলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।