৪০ বছর এক ছাদের তলায়, বিয়ে হয়নি বলে পাবেন না পেনশন? কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের


সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পরে কি তাঁর ‘লিভ-ইন পার্টনার’-ও ফ্যামিলি পেনশন পাবেন? স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন? হর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়ে কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের।

ঘটনার কেন্দ্রে আছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে ডিভোর্স না দিয়েই ছেড়ে গিয়েছিলেন। তার পরে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে।

কিন্তু পেনশনের নথিতে সঙ্গীকে ‘স্ত্রী’ হিসেবে ও তাঁদের সন্তানদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাওয়ার পরেই তাঁর উপরে নেমে এসেছে শাস্তির খাঁড়া। ‘গুরুতর অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তাঁর মাসিক পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ৫০ শতাংশ আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালও বা CAT-ও এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল।

তবে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি মধু জৈনের বেঞ্চ সম্প্রতি সেই রায় খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ওই কর্মী কখনই তাঁর সম্পর্কের কথা গোপন করেননি। বরং তিনি সব সময় এই সম্পর্কের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। তাই একে ‘অসদাচরণ’ বা ‘প্রতারণা’ বলা যায় না।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ৬ শতাংশ সুদ-সহ বকেয়া পেনশন অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে আদালত সরকারকে ওই কর্মীর লিভ-ইন সঙ্গী ও সন্তানদের নাম ফ্যামিলি পেনশন এবং CGHS বা সরকারি হেল্থ স্কিমের সুবিধাপ্রাপক হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায় অদূর ভবিষ্যতে লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post