তিনি শুধু দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের (Dakshineswar Temple) প্রতিষ্ঠাত্রী নন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়া এক বাঙালি নারী। তিনি রানি রাসমণি (Rani Rashmoni)। একা হাতে সামলেছেন জমিদারিও। শুক্রবার নিউটাউনের একটি হোটেল থেকে বাংলার বিধানসভা ভোটের সংকল্পপত্র প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর নামই ভুল উচ্চারণ করার অভিযোগ উঠল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে (Amit Shah)। বলে বসলেন, ‘রানি রাসমতী।’ এই নিয়ে শাহকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। অবশ্য বিজেপির দাবি, তিনি সঠিক উচ্চারণই করেছেন।
রাজ্যে প্রথম দফায় ভোট ২৩ এপ্রিল। তার দু’সপ্তাহ আগে প্রকাশিত ‘সংকল্পপত্রে’ নারী সুরক্ষায় জোর দিয়েছে বিজেপি। রয়েছে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। বাংলায় সন্ধ্যার পরে মহিলারা বাইরে বেরোতে ভয় পান, এই দাবি করে প্রত্যেক মণ্ডলে থানা ও সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশে মহিলাদের দু’টি ব্যাটেলিয়ন তৈরির কথাও দেন। তারই নাম হবে মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানি রাসমণি ব্যাটেলিয়ন। এখানেই অমিত শাহ বলে ফেলেন, ‘রানি রাসমতী।’
এই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যারা বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণ করতে পারে না, তারা এই রাজ্যের উন্নয়ন করবে বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা লিখেছে, ‘বাংলার লোকমাতাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আর অমিত শাহ তাঁর নামই ভুল উচ্চারণ করলেন। তিনি রানি রাসমণিকে তো বটেই, বাংলার ১০ কোটি মানুষের অনুভূতিকে অসম্মান করেছেন।’
এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের সভায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের কাটআউটের প্রসঙ্গও টেনে এনেছে তৃণমূল। তারা লিখেছে, ‘রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই মন্দিরকে বিজেপি নিজেদের প্রচারের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে। অথচ তাঁর ঐতিহ্যের প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখাতে ব্যর্থ।’ বাংলার ইতিহাস, আইকন, মানুষের প্রতি বিজেপির কোনও সম্মান নেই বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল।
তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘তিনি রানি রাসমণিই বলেছেন। আমি ওখানে দাঁড়িয়েছিলাম। উচ্চারণ বিভ্রাট নিয়ে পুরো অপপ্রচার চলছে।’ এখানেই থামেননি তিনি। তৃণমূলের ভিডিয়োর কথা শুনে রীতিমতো ফুঁসে উঠে বললেন, ‘একজন অবাঙালি রাসমণি বললেন, না রাসমতী বললেন, তাতে কী এসে যায়? বরং রাসমণির বাংলাকে যারা পিছিয়ে দিয়েছে, দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে, মানুষ তাদের জবাব দেবেন। এদের দেখলে রানি রাসমণিও কষ্ট পেতেন।’
উল্লেখ্য, এ বারই প্রথম নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতার একটি সাংবাদিক বৈঠকে শচীন্দ্রনাথ সান্যালের নাম বলতে গিয়ে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’ বলার অভিযোগও উঠেছিল শাহের বিরুদ্ধে। সেই নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেছিল তৃণমূল। আবার বালুরঘাটের নাম ‘বেলুরঘাট’ বলার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।