মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন–– তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথেই তাঁকে পরাজিত করে জনতা মমতার রাজনৈতিক জীবনে ইতি টেনে দিয়েছে বলে মনে করছেন শুভেন্দু। ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাতে জনসভা করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট দিয়েছেন মিত্র ইনস্টিটিউশনে। ওখানে চারটি বুথে আপনাদের ভাই শুভেন্দু লিড পেয়েছে। যে নিজের বুথে জিততে পারে না, তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ.... টাটা বাই বাই। খতম, পুরো খতম।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আপনারা (ভবানীপুরকে) নন্দীগ্রাম বানিয়ে দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহঙ্কার আপনারা ভেঙে দিয়েছেন। গ্রাম থেকে আসা এক ছেলেকে নিজেদের লোক করে নিয়েছেন।’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উনি সবে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। কার রাজনৈতিক কেরিয়ার কতদিন থাকবে তা ভবিষ্যৎ বলবে। এটা কেউ আগাম বলতে পারেন না।’ভবানীপুরে মমতার ভোট যুদ্ধে অঘোষিত সেনাপতির ভূমিকায় ছিলেন ফিরহাদ হাকিম(ববি)। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পরে চেতলা থেকেই মমতার সমর্থনে ববি প্রথম প্রচার শুরু করেন। কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিজে জয়ী হতে পারলেও দলনেত্রীকে তিনি ভোট বৈতরণী পার করাতে সক্ষম হননি। শুভেন্দুর কথায়, ‘কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম ভোট দেন চেতলা গার্লসের বুথে। সেখানে পাঁচটি বুথে আমার লিড রয়েছে। খিদিরপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯ হাজার ভোটে লিড দিয়েছে, আর চেতলায় ৮২ নম্বর ওয়ার্ড আমাকে ১৫ হাজার ভোটে লিড দিয়েছে।’ মেয়র নিজের এলাকায় যে দুর্গরক্ষা করতে পারেননি শুভেন্দু সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন বলে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য। পশ্চিমবঙ্গের ভোট ইতিহাসে অতীতে মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে প্রফুল্ল সেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দু’বারই শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হতে হয়েছে।ভবানীপুর মিশ্র ভাষাভাষীদের এলাকা। জনবিন্যাসের কারণে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলা হয়। যেখানে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন রাজ্যের, বিভিন্ন আর্থ–সামাজিক অংশের মানুষ বসবাস করেন। এই কেন্দ্রের মধ্যে কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড রয়েছে। কোন সমীকরণে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন, তারও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু। বাঙালি হিন্দু ছাড়াও গুজরাটি, ওডিয়া থেকে শিখ, জৈন, পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে ঢেলে ভোট দিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিশেষ করে যে বহুতলগুলির বাসিন্দারা সচরাচর ভোট দিতেন না তাঁরাও এককাট্টা হয়ে ভোট দিয়েছেন বলে শুভেন্দুর বিশ্লেষণ। ভবানীপুরে তাঁর নির্বাচনী সাফল্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘২০ হাজার গুজরাটি, ১২ হাজার মারোয়াড়ি, ১২ হাজার পূর্বাঞ্চলী, ৪ হাজার শিখ, ৫ হাজার ওডিয়া, তার সঙ্গে রাষ্ট্রবাদী বাঙালিরা মিলে ভাই শুভেন্দুকে ১৫,১০৫ ভোটে জিতিয়েছেন। এই ঋণ আমি শোধ করব।’