প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের তদন্তে কমিশন, ফিরছেন দময়ন্তী সেন


বিধানসভা ভোটে ইস্তেহার প্রকাশের আগে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছিল বিজেপি। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত হবে। দোষীদের খুঁজে বের করে জেলে পোরা হবে। বাংলায় ভোট প্রচারে এসে একই আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহরা। একই সঙ্গে সন্দেশখালি থেকে আরজি কর— নারী নির্যাতনের সব ঘটনায় কমিশন গড়ে তদন্ত হবে বলেও ‘সংকল্পপত্রে’ দাবি করেছিল বিজেপি। আরজি কর কাণ্ডে পুলিশের গাফিলতি খুঁজতে আগেই তিন আইপিএস অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে সরকার। এ বার প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া মহিলা নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিশনও গড়ল রাজ্য। এ ছাড়াও সরকারি পরিষেবা প্রকল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হওয়া দুর্নীতির তদন্তেও কমিশন গঠন করল বিজেপি সরকার।

এ দিন ভবানীপুরে দক্ষিণ কলকাতার দলীয় কর্মিসভায় শুভেন্দু বলেন, ‘আমি পুর দপ্তরের সচিব এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে চার জনের নাম বলেছি। আপনাদের বলব এই চার জনের নাম? আপনারা শুনতে চান?’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একজন হলো বেলেঘাটার রাজু নস্কর, ১৮টি সম্পত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় কসবার সোনা পাপ্পু— ২৪টি সম্পত্তি। তিন নম্বর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়— লিপস অ্যান্ড বাউন্ডন্সের ১৪, নিজের নামে ৪, বাবার নামে ৬— মোট ২৪টি সম্পত্তি। চতুর্থ নাম হলো জাভেদ খানের ছে‍লে— ৯০টি সম্পত্তি। এরা লুটেছে। আগামী দিনে সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্তকে আইনি পথে জেলে পাঠানোর কাজ বিজেপি সরকার করবে।’ এ নিয়ে রাজু, সোনা পাপ্পু বা অভিষেক কোনও মন্তব্য করেননি। তবে কলকাতায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক, তাঁর পরিবার ও সংস্থার নামে থাকা সম্পত্তি খতিয়ে দেখছে পুরসভা। সূত্রের খবর, পুর-ইঞ্জিনিয়ার ও সম্পত্তিকর বিভাগের আধিকারিকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ থেকে সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে তা বিল্ডিং বিভাগের অনুমোদিত প্ল্যানের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে। কোথাও কোনও বেআইনি নির্মাণ অথবা প্ল্যান-বহির্ভূত রদবদল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শনে যাবেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে জাভেদ খানের ছেলে ফৈয়াজ খান বলেন, ‘ওঁকে কেউ ভুল তথ্য দিয়েছেন। আমার সব সম্পত্তির বিস্তারিত হিসেব আয়কর দপ্তরের কাছে আছে। কিছু নিজের অর্থে কেনা, আর বাকিগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।’

সোমবার নবগঠিত রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে দুই কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কমিশন গঠনের বিষয়টি জানান। দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে। সদস্য সচিব হচ্ছেন আইপিএস অফিসার কে জয়রামন। নারী নির্যাতন বিষয়ক তদন্ত কমিশনের চেয়ারপার্সন হচ্ছেন আর এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। সদস্য সচিব করা হয়েছে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post