সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ''বিশ্বকর্মা যোজনায় আমাদের যারা বিশ্বকর্মা আছেন, হাতের কাজ করেন। আমাদের কামার, কুমোর থেকে, কুম্ভকার, স্বর্ণকার থেকে, মালাকার থেকে, তাঁতি থেকে, নাপিত থেকে সবাই যারা ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করে রেখেছিলেন, আগের সরকার এই আবেদন তাদের জেলা শাসকদের দিয়ে কেন্দ্রের MSME দফতরে পাঠাতে দেননি। আমরা দ্রুত সেই ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন পুত্রকে পাঠানোর ব্যবস্থা নিলাম।''
বিশ্বকর্মা যোজনা কী?
পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা হল একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এটি কেন্দ্রের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রকের পক্ষ থেকে চালু করা হয়। মূলত কারিগর শ্রেণির মানুষদের সাহায্যের জন্য প্রকল্পটি ভাবা হয়। জমানত মুক্ত ঋণ, দক্ষতার প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম, ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ইনসেন্টিভ এবং মার্কেট লিঙ্কেজ সাপোর্টের সুবিধা প্রদান করা হবে এই যোজনার মাধ্যমে। যাতে কারিগররা তাঁদের দেশীয় পণ্যকে বিশ্বব্যাপী উন্নত বাজারের প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করে তুলতে পারেন।
কবে চালু হয়েছে ?
আমাদের দেশের প্রান্তিক এলাকার যে সমস্ত মানুষজন ট্রাডিশনাল শিল্প কর্মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের কর্মপদ্ধতি এবং জীবনযাপনের মানকে আরও উন্নত, কাজের আধুনিকীকরণ এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতি দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চালু করেন এই বিশ্বকর্মা প্রকল্প। দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে সমস্ত উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে শুরু হয়েছে 'বিশ্বকর্মা যোজনা'।
কারা আবেদন করতে পারবেন ?
১৮ বছর বয়স হলেই এই স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আপনি যে শিল্পকর্মের জন্যই আবেদন করবেন, তাতে অবশ্যই কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
কী কী সুবিধা পাচ্ছেন ?
১. এই স্কিমে নিজের শিল্পকাজের স্কিলকে আরও বৃদ্ধি করার জন্য ১৫ হাজার টাকার টুলকিট দেওয়া হয়।
২. আপনার কাজের জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হয়।
৩. আপনার কাজকে আরও উন্নত করতে ৫-৭ দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। ডিজিটাল ও আর্থিক লেনদেন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন, ঋণ-সহায়তা-সহ একাধিক জিনিস থাকে এই প্রশিক্ষণে।
৪. প্রশিক্ষণ শেষ করলে ১৮ মাসের জন্য বিনা সুদে ১ লক্ষ টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়।
৫. আপনি যদি ডিজিটাল লেনদেন শুরু করেন, তবে প্রতি লেনদেনর জন্য ১ টাকা করে পাবেন।
৬. প্রথমে ‘পিএম বিশ্বকর্মা পোর্টালে’ (PM Vishwakarma Portal) গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, মোট ১৮ ধরনের কারিগরদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন নৌকা প্রস্তুতকারী, কামার, ছুতোর, স্বর্ণকার, চর্মকার, রাজমিস্ত্রি, নাপিত, ধোপা, কুমোর, মূর্তিশিল্পী, মালাকার, দর্জি, মাছ ধরার জাল যারা প্রস্তুত করেন তাদের মতো পেশার মানুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।