দূরপাল্লার সরকারি বাসেও কি মহিলাদের জন্য মিলবে বিনামূল্যের পরিষেবা ? নবান্নে বৈঠকের পর একগুচ্ছ জরুরি ঘোষণা রাজ্য সরকারের


কলকাতা: পয়লা জুন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের অনুমোদন, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের সরকারি বাস পরিষেবা -সহ নবান্নে বৈঠকের পর একগুচ্ছ জরুরি ঘোষণা রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। 

এদিন নবান্নে বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানালেন , নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধীনস্ত অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন। দ্বিতীয়ত ২০২৬ সালের পয়লা জুন থেকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে, পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের পরিবহণ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন। যে কোনও সরকারি বাসে দূরপাল্লা হোক কাছের হোক, মহিলাদের কোনও ভাড়া লাগবে না। তৃতীয়ত, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা-বোর্ড-নিগম-স্থানীয় সংস্থা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তমতম রাজ্য বেতন কমিশনের গঠন। চতুর্থত, তথ্য ও সংষ্কৃতি বিষয়ক দফতর এবং সংখ্যা লঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্ত, ধর্মীয় শ্রেণী বিন্যাসের ভিত্তিতে, প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প সমূহ বন্ধ, এই মাস চলবে, পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। 

এদিন মোট ৫ টি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁরা এখন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় সহায়তা পাবেন। পয়লা জুন থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। যারা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন,  যারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার পাবেন। সেই সঙ্গে এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে মহিলাদের জন্য ফ্রি সরকারি বাস পরিষেবা। যে কোনও দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মহিলারা  বিনামূল্যে পরিষেবা পাবেন। তৃতীয় হচ্ছে পে কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু কবে গঠন করা হবে, নোটিফিকেশন দিতে পরে জানানো হবে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতে যে বরাদ্দ ছিল, সেই বরাদ্দও স্থগিত করে দেওয়া হচ্ছে।আগামীদিনে অনুসন্ধান করা হবে, তারপর রাজ্য সরকার নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে, এই বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে।কিন্তু এখন এইমুহূর্তে এই প্রকল্পগুলির যে বরাদ্দ অর্থ সহায়তাগুলি বন্ধ করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, আজ মন্ত্রীসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর ঘোষণা করা হল, রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের বেতন পরিকাঠামোর জন্য, সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করা হবে।  সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের পর, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ধর্নামঞ্চের থেকে এক প্রবীণ ব্যক্তি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আমরা এখানে আজকে ১ হাজার ২০৮ দিন ধরে বসে আছি। বর্তমান সরকারের যে মুখ্যমন্ত্রী, তিনি তখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, বারবার আমাদের মঞ্চে এসেছেন। আমাদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন।এবং কথা দিয়েছিলেন যে, প্রথম ক্যাবিনেটেই এই ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনা হবে।…যদি সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়, এটা আমাদের দাবি ছিল,সেন্ট্রালের অষ্টমের সঙ্গে আমাদের সপ্তম যোগ করে, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ আমরা পাব। আমরা আশা করি যে, সেন্ট্রালিভাবে এটাকে অর্ডার হিসেবে পাশ করা হোক। যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর রাস্তায় বসতে না হয় ডিএ নিয়ে।

Post a Comment

Previous Post Next Post