দরপত্র আহ্বান না করেই কেন ইসকনকে দেওয়া হল কলকাতার স্কুলের মিড-ডে মিলের বরাত? প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করল পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন।
রাজ্যের ক্ষমতায় এসে প্রথম বাজেটে বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল, কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি ও সরকারিপোষিত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহ করবে ইসকন। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এই পদক্ষেপ। সফল হলে গোটা রাজ্যে তা করা হতে পারে।
এরই বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৮ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সে সময়ই বেঞ্চ জানিয়েছিল, ইসকনকে যে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। কেবলমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ভিত্তিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে বেঞ্চ এ-ও জানিয়েছিল, মিড-ডে মিল সংক্রান্ত ওই ঘোষণা যে কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিতে হবে।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের তরফে আইনজীবী ঋতঙ্কর দাসের দায়ের করা মামলার শুনানি হয় বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে। ৮ জুলাইয়ের জনস্বার্থ মামলার সঙ্গে তাকে যুক্ত করে আগামী অগস্টে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।
৮ জুলাই দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময় কলকাতার মিড-ডে মিল সংক্রান্ত কোনও পদক্ষেপ সরকার করেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মতো গত ১৫ জুলাই কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে রান্না করা গরম খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসকন ‘অন্নামৃত ফুড রিলিফ ফাউন্ডেশন’কে। আগামী ১ অগস্ট থেকে সেই পরিষেবা চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর পরই ৩০ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন। তার ভিত্তিতেই ওই পুরনো মামলার সঙ্গে নতুন এই মামলাকে যুক্ত করা হল।
পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দরপত্র ছাড়া এ ভাবে ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়া আসলে বেআইনি। এ ভাবে কোনও প্রকল্পকে বেসরকারি হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আশা করি আদালতের রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।”