চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় সিবিআইয়ের জালে দুই ভাই, খুনের ছক কষা হয়েছিল ২০২৫ সাল থেকেই দাবি তদন্তকারীদের
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্তে আরও বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। শুক্রবার এই মামলায় দুই সহোদর সাগর সোনকর ও সাহেব সোনকরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ভাই বিজেপির কর্মী এবং চন্দ্রনাথ রথের পূর্বপরিচিত ছিলেন।
সিবিআই সূত্রের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার পরিকল্পনা ২০২৫ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তে আরও জানা যায়, সাগর ও সাহেব সোনকর ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তার আগে তাঁরা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সাগর সোনকর নিয়মিত একটি ল্যান্ডলাইন নম্বরের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই সূত্র ধরে সিবিআইয়ের সন্দেহ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের কোনও ব্যক্তি বা নেতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকতে পারে। যদিও কোন রাজনৈতিক দল বা কোন নেতার সঙ্গে সেই যোগাযোগ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিবিআই আরও জানিয়েছে, খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থের জোগান, ভাড়াটে খুনি নিয়োগ এবং গোটা অপারেশনের সমন্বয়ের দায়িত্ব মূলত সাগর ও সাহেব সোনকরই সামলেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম যখন রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছিল, সেই সময়েই চন্দ্রনাথ রথ খুন হন। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং সিবিআই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।