মার্কিন মুলুকে রাষ্ট্রীয় সফরের আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। তাঁর প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের আগে আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের সঙ্গে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির যোগ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর তরফে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশনের আর এক সদস্য জিন মিলস মন্তব্য করেছেন, আরএসএসের নেতাদের যেন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য না দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে।
এই মন্তব্য সামনে এসেছে ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরকে ঘিরে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২৯ অগস্ট নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ৩১ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা সফরের কর্মসূচিও রয়েছে।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আরএসএস-সদস্য হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সংগঠনটিকে এমন একটি ‘ছাতার’ মতো সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে মুসলিম ও খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এগুলি মার্কিন কমিশনের অভিযোগ ও মূল্যায়ন—প্রমাণিত বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
এর আগে মার্চে প্রকাশিত USCIRF-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়। ভারত অবশ্য সেই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র বলে দাবি করেছিল এবং প্রশ্নবিদ্ধ সূত্র ও মতাদর্শগত বয়ানের উপর নির্ভরতার অভিযোগ তুলেছিল।
ফলে ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে আরএসএসকে ঘিরে মার্কিন কমিশনের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে মার্কিন কমিশনের উদ্বেগ, অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে সেই ধরনের মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান—দুই দেশের মধ্যে এই ইস্যুতে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।