বঙ্গবিভূষণ সম্মান হাতছাড়া হওয়ার কয়েকঘণ্টায় ভোলবদল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সোশাল মিডিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। বললেন, ‘নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
ঠিক কী বলেছিলেন নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ? তিনি বলেন, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
নেতাজি সম্পর্কে এই মন্তব্যের জেরে স্বাভাবিকভাবেই অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। সম্প্রতি মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, নেতাজিকে কেউ অপমান করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তারপরই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয় রাজ্য সরকার। মমতা জমানায় রাজ্যের তরফে এই সম্মান পেয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। রাজ্যের এই কঠোর পদক্ষেপের পরও বেশ কিছুক্ষণ আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেন অনন্ত। বলেন, “যে সময়ের কথা বলেছি, তখন আমার জন্ম হয়নি। আমি নেতাজিকে অপমান করিনি। কাউকে গালাগালও করিনি। নিজের মুখ থেকে কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া রূপকথা বানিয়ে বলিনি। কারও নামে বদনামও করিনি। যেটা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে, সেটাই সাধারণ মানুষকে বলেছি। শুধুমাত্র ঐতিহাসিক কিছু তথ্য সামনে তুলে ধরেছি। আমি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতেই পারে।” তবে পরবর্তীতে সুরবদল করে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন অনন্ত মহারাজ। ফেসবুকে ভিডিওতে তিনি বললেন, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”