চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডে বন্ধের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সকাল থেকেই রাজধানী রাঁচী-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্ধের প্রভাব পড়ে। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ—ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়।
রাঁচীর হরমু চৌক এবং কিশোরগঞ্জ চৌকে বিজেপি কর্মীদের টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করতে দেখা যায়। কিশোরগঞ্জ, আরগোড়া এবং কানকে এলাকাতেও যান চলাচল ব্যাহত হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বন্ধের জেরে রাঁচী-সহ রাজ্যের একাধিক শহরে যানবাহন চলাচল কমে যায় এবং বহু দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
এর মধ্যেই রাঁচীতে বিধানসভা অভিযানে নামে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর আগের দিনের পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিধানসভা অভিমুখে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোট প্রায় ১১০ জন এবিভিপি কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ইতিমধ্যেই একাধিক দিন ধরে চলছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হলেও এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বন্ধ ও পাল্টা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাঁচীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বন্ধের প্রভাব কোথাও বেশি, কোথাও তুলনামূলক কম—ফলে রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এ বার সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিজেপির বন্ধ এবং এবিভিপির বিধানসভা অভিযান ঘিরে মঙ্গলবারের ঘটনাপ্রবাহে সেই উত্তেজনাই আরও স্পষ্ট হয়েছে।