মোটা মাইনের চাকরির লোভ দেখিয়ে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়ে যুবকের কিডনি বিক্রির অভিযোগ, গ্রেফতার ১


কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের যুবককে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়ে কিডনি বিক্রির অভিযোগ। বিধাননগর পুলিশের হাতে গ্রেফতার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। অসুস্থ যুবককে দেখতে হাসপাতালে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মঙ্গল মণ্ডল নামের এক যুবক কলকাতায় একটি গ্লাভস তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন। তাঁকে মোটা টাকার চাকরির লোভ দেখিয়ে হরিয়ানায় নিয়ে যায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। হরিয়ানায় নিয়ে গিয়ে মঙ্গল নামে যুবকের একটি কিডনি শরীর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর মঙ্গলের পরিবারের তরফে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে কিডনি বিক্রির চক্রের মিডলম্যান হিসেবে প্রভাস মণ্ডলকে সুকান্তনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাকে আদালতে পেশ করা হয়।
অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মঙ্গল মণ্ডল নামের ওই যুবক। আজ তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরও একটি কিডনি নেই। এই ব্যক্তি কিডনি পাচার চক্রের শিকার হয়ে গিয়ে তারপর এই চক্রে যুক্ত হয়ে পাণ্ডা কিংবা মিডলম্যান হিসেবে কাজ করছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিধাননগর হাসপাতালে ভর্তি থাকা মঙ্গল মণ্ডল নামে যুবকের আলট্রা সোনোগ্রাফি করে দেখা গিয়েছে যে তাঁর একটি কিডনি নেই। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, নজরে রাখা হচ্ছে। যুবকের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। কারা কারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বিধাননগরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা যুবককে দেখার পর জানিয়েছেন যে, যুবকের অনুমতি ছাড়া জোর করে যে কিডনি তাঁর শরীর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে, তার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অত্যন্ত বড় অভিযোগ বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যুবকের বয়স ৩১ বছর। কলকাতার গ্লাভস কারখানায় কাজ করতেন মঙ্গল। আরও বেশি টাকার ভাল কাজ দেওয়ার টোপ দেখিয়ে মঙ্গলকে নিয়ে যাওয়া হয় হরিয়ানায়। প্রভাস মণ্ডল নিয়ে যান এই মঙ্গলকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'কয়েকটা জিনিস মিলছে না। নতুন কাজের কথা হওয়ার পর আধঘণ্টার মধ্যে ট্রেনে উঠে পড়ল। বাড়ির লোক জানে না। নিজেও বলছে জামাকাপড়ও নিয়ে যায়নি। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হল লুধিয়ানায়। সেখানে একদিন হোটেলে রাখা হয়। ওখানে সাকিল বলে একজনের সঙ্গে আলাপ হয়। যুবককে সোজা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়। যাওয়ার আগেও যুবকের একটা রক্ত পরীক্ষা করানো হয়।' 

Post a Comment

Previous Post Next Post