যে পুলিশ গুলি করল, তারা কী ভাবে তদন্ত করবে? বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ডে তদন্তকারী বদল চেয়ে মামলা হাই কোর্টে


এর আগে বারুইপুরে এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। এই নিয়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়াল চার। হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাগুলির শুনানি হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আগামী ১৮ অগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি। নতুন মামলাটির ক্ষেত্রেও রাজ্যের রিপোর্ট দেখেই মন্তব্য করবে আদালত।

মামলাকারীর বক্তব্য, যে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই পুলিশই কী ভাবে বারুইপুরের ঘটনার তদন্ত করবে? আদৌ কি সে ক্ষেত্রে এনকাউন্টারের রহস্য কোনও দিন ভেদ করা যাবে? তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন করে এই রহস্য উন্মোচন করা হোক, আদালতে জানান মামলাকারী। তাঁর হয়ে আদালতে এই মামলার সওয়াল করেছেন আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী। আদালত জানিয়েছে, রাজ্যের বক্তব্য আগে শোনা প্রয়োজন। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা যাবে।

বারুইপুরে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের মধ্যে প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। অভিযোগ, গভীর রাতে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। কোনও নিয়ম মানা হয়নি। সেই সময়ের কোনও ভিডিয়ো রেকর্ডিংও নেই। কেন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য এমন একটা সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল? সেখানে ঠিক কী কী ঘটেছিল? পুলিশকে তা বিস্তারিত জানিয়ে হলফনামা জমা দিতে বলেছে আদালত। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে ঘটনা বিশদ উল্লেখ করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

রাজ্যের আইনজীবী জানান, অপরাধের কথা জেরায় স্বীকার করেছিলেন প্রভাস। তাই তাঁকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনও অনিয়ম হয়নি বলে দাবি পুলিশের। ঘটনায় বাকি অভিযুক্তেরা আপাতত জেল হেফাজতে রয়েছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post