মহাশ্মশানে বাস দেবীর, তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান, শিব-সতীর সঙ্গেও জুড়ে তারাপীঠ মন্দির



বীরভূমের শ্মশানেই তন্ত্র সাধনা করেছিলেন তারানাথ তান্ত্রিক। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত তারানাথ তান্ত্রিকের গল্পে বীরভূমের মহাশ্মশানের কথা উঠে এসেছে বারবার। বাঙালির সঙ্গে বীরভূমের মহাশ্মশান জড়িয়ে গিয়েছে তারা মা ও বামাখ্যাপার জন্য।

  • বীরভূমের মহাশ্মশান তন্ত্রসাধনা ও আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য পরিচিত।

  • দ্বারকা নদীর ধারে অবস্থিত তারাপীঠকে অনেকে সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম বলে মনে করেন।

  • দেবীর তৃতীয় নয়ন এখানে পড়েছিল বলে তারাপীঠ ‘নয়ন তারা’ নামেও পরিচিত।

  • বামাখ্যাপা ছিলেন তারা মায়ের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং তারাপীঠেই সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে প্রচলিত।

  • আজও বীরভূমের মহাশ্মশানে দেখা মেলে তন্ত্র সাধক ও অঘোরী সন্ন্যাসীদের। দ্বারকা নদীর ধারে অবস্থিত এই মহাশ্মশান সিদ্ধপীঠ হিসেবে পরিচিত। অনেকের মতে এটি সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম। এখানে দেবীর তৃতীয় নয়ন পড়েছিল বলে মনে করা হয়। সেই কারণে তারাপীঠ নয়ন তারা নামেও পরিচিত। দেবীর দশমহাবিদ্যার অন্যতম মা তারা। তিনি একই সঙ্গে ভয়াল ও করুণাময়ী।

    তারা মা ও বামাখ্যাপার কাহিনি

    তারা মায়ের একনিষ্ঠ প্রসিদ্ধ ভক্ত বামাখ্যাপা এই তারাপীঠেই কৌশিকী অমাবস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তারাপীঠের কাছে আলতা গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর আসল নাম ছিল বামাচরণ। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই জাগতিক বিষয়ে তিনি ছিলেন উদাসীন। সাংসারিক বিষয়ে উদাসীনতার কারণে বামাখ্যাপা নামে লোকমুখে পরিচিত হন তিনি। তারা মায়ের আরাধনা ছাড়া তাঁর জীবনে আর কোনও অভীষ্ট লক্ষ্য ছিল না। তারা মায়ের ভক্তিতে তিনি এতটাই বুঁদ হয়ে থাকতেন যে লাল জবা ফুল দেখেও তাঁর মনে ভক্তিভাব জাগ্রত হতো। সেই সময় তাঁর চারপাশে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে তাঁর কোনও হুঁশ থাকত না।

    কিন্তু ছেলের শ্মশানে পড় থাকা পছন্দ করতেন না বামাখ্যাপার গর্ভধারিনী মা। তিনি ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতেন না। কিন্তু মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি বামাখ্যাপা। সেদিন আকাশ করে প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছিল। দুর্যোগের কারণে বামাখ্যাপার মায়ের মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ওই দুর্যোগের মধ্যে নদী সাঁতরে গ্রামে যান বামাখ্যাপা। ভাইকে বলেন মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে। আশ্চর্যের ব্যাপার, চারপাশে প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়লেও শ্মশানের চিতায় এক ফোঁটাও বৃষ্টির জল পড়েনি এবং নির্বিঘ্নে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

  • বামাখ্যাপার আশীর্বাদে বহু গুরুতর অসুস্থ মানুষের রোগমুক্তি হয় বলে প্রচলিত আছে। আজও বহু মানুষ তাঁর তারা মায়ের কৃপা লাভ করতে তারাপীঠে যান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি তীর্থক্ষেত্র, পর্যটন স্থান নয়। তাই মনে লোভ ও ঈর্ষা নিয়ে এখানে এলে তারা মায়ের ভয়াল রূপের সাক্ষী থাকতে হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post