দেশে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোয় প্রায় এক দশক পর ফের চিনি আমদানির পথে হাঁটতে পারে ভারত। উৎসবের মরসুমের আগে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রায় ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।
চিনির দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে আখের একটি বড় অংশ ইথানল উৎপাদনে চলে যাওয়া। পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যে জ্বালানি উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়িয়েছে সরকার। চলতি মরসুমে প্রায় ৩০ লক্ষ টন চিনি ইথানল উৎপাদনের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি নীতি নিয়ে আলোচনায় থাকা তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
এর ফলে বাজারে চিনির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে অগস্টে চিনির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে কুইন্টাল-পিছু ৫৩৫০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। খুচরো বাজারেও দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই চিনির মজুতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে উৎসবের মরসুমে চাহিদা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। গণেশ চতুর্থী, দশেরা ও দীপাবলির সময়ে মিষ্টি-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার বাড়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল ও চিনির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চিনির জোগান বাড়াতে আগামী মরসুমে আখ থেকে ইথানল তৈরির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি ভুট্টা ও চালের মতো বিকল্প কাঁচামাল ব্যবহার করে ইথানল উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে ইথানল নীতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তার প্রভাব যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় চিনির বাজারে না পড়ে, সেই ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে—চিনি আমদানির অনুমতি মিললে তা বাজারে কতটা দ্রুত স্বস্তি ফেরাতে পারে, সেটাই দেখার।