দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণির সৈকতে নজরদারির জন্য দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরও ৪৫ জন প্রশিক্ষিত নুলিয়া ও সিভিল ডিফেন্স কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অভিযোগ ৬৩ জন নুলিয়ার মধ্যে মন্দারমণিতে ২৪, তাজপুরে ১৪ ও দিঘায় ২৫ জন নুলিয়া রয়েছেন নজরদারিতে। অভিযোগ, মাস দুয়েক আগে নুলিয়াদের রদলবদল করা হয়। মন্দারমণি থেকে অভিজ্ঞ নুলিয়াদের দিঘায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে কারণে নতুন দায়িত্বে আসা নুলিয়াদের অনেকের কছে মন্দারমণির দীর্ঘ সৈকতের কোন অংশে চোরাবালি কিংবা চোরাস্রোত রয়েছে তা এক প্রকার অজানা।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বিচের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে জলধা মোহনা সংলগ্ন এলাকায় চোরা বালি ও চোরা স্রোত থাকায় ওই এলাকা বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় লোকজন বিচের এই অংশ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এই অংশে বিচের কাদা মিশ্রিত বালির নীচে বড় বড় গর্ত রয়েছে। না জেনে এই সব গর্তের কাছে পা দিলেই পায়ের নীচে বালি সরে গিয়ে বিপদে পড়ে মানুষ। অভিযোগ, দীর্ঘ এই সৈকতের কোন অংশ বিপজ্জনক তা বোর্ড লাগিয়ে সতর্ক করা হয়নি। ফলে পর্যটকরা না জেনে সৈকতের যেখানে সেখানে সমুদ্রস্নানে নেমে বিপদ ডেকে আনছেন। শনিবারও জোয়ারের সময় পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে বারণ করা হয়েছিল বলে নুলিয়া ও স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু বারণ না শুনেই দু’জন জোয়ারের সময়ে সমুদ্রে নেমেছিলেন বলে অভিযোগ।
এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।’ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দের উপরে নজর রাখছে। দক্ষ নুলিয়াদের দিঘায় সরিয়ে আনার অভিযোগ ঠিক নয়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় শুধু নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানো নয়, হোটেলগুলির ফায়ার সেফটি, খাবারের মান ও আইন শৃঙ্খলার উপরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’