পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদের মধ্যে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে একটি কমিটির চেয়ারম্যান করা হলেও, বিজেপির একাধিক বিধায়ককে সেই সুযোগ না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের একাংশও এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা সূত্রের খবর, বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে নওশাদ সিদ্দিকীকে একটি স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক রীতি মেনে বিরোধী সদস্যদেরও কমিটির দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, বিধানসভায় সংখ্যায় তারা প্রধান বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও তাদের তুলনায় আইএসএফকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। দলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই বণ্টন করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইএসএফের দাবি, বিধানসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী এই দায়িত্ব পাওয়া স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে বিতর্কের কোনও কারণ নেই।
কমিটি বণ্টনকে ঘিরে এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিষয়টি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।