ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের একের পর এক ব্যর্থতা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পরই PCB-র চেয়ারম্যান মহসিন নকভির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, গত ৭০ বছরে পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমন ‘খারাপ’ বোর্ড দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ১৪ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় তারা। পরে সৌদ শাকিলের ৯৭ রানের লড়াকু ইনিংস কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানে ম্যাচ হারতে হয়। এর আগে প্রথম টেস্টেও পাকিস্তান ইনিংস ও ১০৩ রানে পরাজিত হয়েছিল। ফলে সিরিজ এখন ইংল্যান্ডের দখলে ২-০।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর আজমও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁর ব্যর্থতা নিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন। দলের টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এখন পাকিস্তান শিবিরের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ।
এই পরিস্থিতিতেই PCB-র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী নীতি এবং দল পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, সমস্যার দায় শুধু ক্রিকেটারদের উপর চাপিয়ে দিলে হবে না, বোর্ডের ব্যবস্থাপনাকেও জবাবদিহি করতে হবে। নকভির নেতৃত্বাধীন PCB ইতিমধ্যেই একাধিকবার দল নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এর মধ্যেই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সরফরাজ় আহমেদের ভবিষ্যৎও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলেই তাঁকে পাকিস্তান জাতীয় দলের হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ০-২ হারের পরও সরফরাজ়ের পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের ব্যর্থতার পর তাঁর চাকরি সত্যিই যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে PCB-র তরফে এখনও কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই।
অর্থাৎ, এই মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেটে শুধু ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নয়, গোটা ব্যবস্থাপনাই কাঠগড়ায়। ২-০ পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের সামনে এখন শেষ টেস্টটি অন্তত সম্মান বাঁচানোর লড়াই। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। তার আগে নকভির বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটমহল।