একসময় কম দামে সহজেই মিলত ‘সস্তায় পুষ্টিকর’ খাবার হিসেবে পরিচিত ডিম। কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ তৈরি করছে। গত এক বছরে দেশে ডিমের দাম প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ বেড়েছে। খামার থেকে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিমের দাম প্রায় ৭ টাকা, আর খুচরো বাজারে তা ৮.৫০-৯ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির (NECC) তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির পিছনে উঠে আসছে মক্কা বা ভুট্টার দাম। কারণ পোলট্রি ফিডের অন্যতম প্রধান উপাদান হল মক্কা। মুরগির খাবারের খরচ মোট ডিম উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ফিডের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ডিমের উৎপাদন খরচে।
আর এখানেই যুক্ত হচ্ছে ইথানল। দেশে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইথানল তৈরিতে মক্কার ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে পোলট্রি শিল্প এবং ইথানল উৎপাদক—দুই ক্ষেত্রেই একই কাঁচামালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মক্কার বাজারদরে চাপ পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে মক্কার দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বাজারে প্রতি কেজি মক্কার দাম প্রায় ২২ টাকা থেকে বেড়ে ২৮-৩০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে বলেও পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য উঠে এসেছে।
তবে ডিমের দাম বৃদ্ধির জন্য শুধু ইথানলকেই দায়ী করা যাবে না। মক্কার উৎপাদন, আবহাওয়া, বাজারে সরবরাহ, মজুত, আমদানি-রফতানি এবং সয়াবিনের মতো অন্যান্য ফিড উপাদানের দামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। চলতি বছরে স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতিও ডিমের দামে প্রভাব ফেলছে।
এর উপর সামনে শীতকাল। সাধারণত শীতের সময়ে ডিমের চাহিদা বাড়ে। ফলে ফিডের দাম যদি উঁচু থাকে এবং একই সঙ্গে ডিমের চাহিদাও বাড়ে, তা হলে আগামী মাসগুলিতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা।
অর্থাৎ, ইথানলকে ডিমের মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র ‘খলনায়ক’ বলা ঠিক হবে না। কিন্তু মক্কার জন্য পোলট্রি শিল্প ও ইথানল শিল্পের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা যে ডিমের উৎপাদন খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পেট্রোলের মিশ্রণে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর নীতির প্রভাব যে এ বার সাধারণ মানুষের খাবারের থালাতেও পৌঁছে যাচ্ছে, ডিমের বাড়তে থাকা দাম তারই একটি উদাহরণ।