টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। N. Chandrasekaran টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব সামলাবেন।
চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই টাটা সন্সের অন্দরে টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদের জন্য তাঁর পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বোর্ডে উঠলেও সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়। সেই সময় টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান Noel Tata একাধিক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ, কিছু সংস্থার লোকসান এবং মূলধন ব্যবহারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
পরবর্তী সময়েও চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। টাটা ট্রাস্টস টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ অংশীদার হওয়ায় তাদের অবস্থান এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কৌশল, শাপুরজি পালোনজি গোষ্ঠীর বেরিয়ে যাওয়ার পথ এবং টাটা সন্সের সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি নিয়েও মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছিল।
তবে চন্দ্রশেখরন এখনই কার্যত সরে যাচ্ছেন না। তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ। সেই সময় পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন চন্দ্রশেখরন। তাঁর নেতৃত্বে টাটা গোষ্ঠী প্রযুক্তি, বিমান পরিষেবা, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য নতুন ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি নতুন ব্যবসায় লোকসান এবং গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
চন্দ্রশেখরনের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন। আগামী দিনে টাটা সন্স ও টাটা ট্রাস্টসের মধ্যে সেই বিষয়ে কী সমঝোতা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে শিল্পমহলের।