বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ফখরুলের মনোনয়ন! প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা অলি আহমেদ


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজনীয় সম্মতিও ফখরুল দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়েছিল।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ৯ আগস্ট ঢাকায় বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অলি আহমদের প্রার্থিতার কথা জানান। অলি আহমদ একসময় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সাবেক সেনাকর্মকর্তা অলি আহমদ ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত। তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপি গঠন করেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফখরুলের বিরুদ্ধে তাঁর প্রার্থিতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
এই নির্বাচনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে শুধু নির্বাচনী লড়াই হিসেবে নয়, সংসদে বিরোধী শক্তির উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও বিরোধী প্রার্থী অলি আহমদের উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলেছে।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর অলি আহমদের প্রার্থিতা বিরোধীদের নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল তাই শুধু সাংবিধানিক পদে নতুন মুখ বেছে নেওয়ার বিষয় নয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post