নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে বৃহস্পতিবার বুলডোজ়ার চালিয়ে বেশ কিছু কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি সূত্রের দাবি, হাই কমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে ওই নির্মাণগুলি তৈরি করা হয়েছিল। ভিসা বিভাগের কাছে কিউ ম্যানেজমেন্টের জন্য তৈরি কিছু কাঠামো, ট্রাফিক বোলার্ড এবং ব্যারিকেডও এই অভিযানের আওতায় আসে।
চাণক্যপুরীর শান্তিপথ এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে নিরাপত্তা ঘেরাটোপের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। জেসিবি দিয়ে কাজ চালানোর পর ঘটনাস্থলে ভাঙা ধাতব কাঠামো ও নির্মাণসামগ্রীর অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে হাই কমিশনের মূল প্রবেশদ্বার ও মূল ভবনের কাঠামোতে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, হাই কমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে থাকা নির্মাণ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু স্থাপনা নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় সেগুলি সরানো হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি ব্যাখ্যায় এটি মূলত অননুমোদিত নির্মাণ ও অতিক্রমণমুক্ত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
তবে ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন নতুন করে আলোচনায়। কয়েক দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ও পার্কিং পোল সরিয়ে দিয়েছিল। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরের কাঠামো সরানোর ঘটনায় দুই দেশের পদক্ষেপকে ‘জবাবি পদক্ষেপ’ হিসাবেও দেখা হচ্ছে।
যদিও প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লির পদক্ষেপের সরাসরি কারণ হল অনুমোদিত সীমার বাইরে থাকা কাঠামো। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ব্যাখ্যায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ অপসারণকেই।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বিষয়ে উত্তেজনা রয়েছে। সেই আবহে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরের এই উচ্ছেদ অভিযান স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। আগামী দিনে ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।