বারাসতে একটি সরকারি ভবনের নাম পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক। ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীরের চেয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বেশি’—এই যুক্তির ভিত্তিতে ভবনটির নাম বদল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
বারাসত ইতিহাসের সঙ্গে তিতুমীরের নাম গভীর ভাবে জড়িত। ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ শাসন এবং জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছিল। বারাসাত বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিতুমীর। তাঁর আন্দোলন বাংলার ঔপনিবেশিক-বিরোধী প্রতিরোধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা। ফলে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
ভবনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কী মাপকাঠি নেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, তিতুমীরের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অন্য নেতার অবদানের তুলনা টেনে সরকারি ভবনের নাম পরিবর্তন করা উচিত নয়। পাল্টা যুক্তিতে সিদ্ধান্তের সমর্থকেরা শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বারাসতে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে ভবনটির নাম নিয়ে কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ করা হয় কি না, এখন সে দিকেই নজর।