গতকাল উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আজ, ৩০ অগাস্ট সকাল সাড়ে আটটায় একই অঞ্চলের উপর সুস্পষ্ট নিম্নচাপ (Well-Marked Low Pressure Area) হিসেবে অবস্থান করছে। এই নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এটি আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ওড়িশা-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাবে ৩১ অগাস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি (৭–২০ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়ার এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জায়গাতেও হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।
কোথায় কতটা বৃষ্টিপাত হয়েছে
দক্ষিণবঙ্গ:
বাঁকুড়া — ৭ সেমি
বসিরহাট — ৫ সেমি
দুর্গাপুর — ৪ সেমি
বাঁকুড়া — ৪ সেমি
সাগরদিঘি — ৩ সেমি
সাগর আইল্যান্ড — ৩ সেমি
দিঘা — ৩ সেমি
খাড়িদওয়ার (পুরুলিয়া) — ২ সেমি
ডি পি ঘাট (ঝাড়গ্রাম) — ২ সেমি
উত্তরবঙ্গ:
ইন্দং টি এস্টেট (জলপাইগুড়ি) — ৫ সেমি
কৈলাশপুর টি এস্টেট (জলপাইগুড়ি) — ৩ সেমি
ঝালং (কালিম্পং) — ৩ সেমি
গাজলডোবা (জলপাইগুড়ি) — ৩ সেমি
সরস্বতীপুর টি এস্টেট (জলপাইগুড়ি) — ৩ সেমি
লাভা (কালিম্পং) — ২ সেমি
আনন্দপুর টি এস্টেট (জলপাইগুড়ি) — ২ সেমি
আলবিহেল টি এস্টেট (জলপাইগুড়ি) — ২ সেমি
দক্ষিণবঙ্গের আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আগামীকাল, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় অধিকাংশ জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের এক-দুই জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টি (৭–২০ সেমি) হতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার এক-দুই জায়গায় ভারী বৃষ্টি (৭–১১ সেমি) হতে পারে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক-দুই জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর থেকে বলা হয়েছে, নিচু এলাকা ও আন্ডারপাসে সাময়িক জল জমতে পারে। ক্ষেতের ফসল ও উদ্যানজাত ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে খোলা মাঠে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচা রাস্তার ক্ষতি এবং দুর্বল কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি হয়েছে। ৩০ অগাস্ট থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশের উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।