লোকসভা আসনের সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং মহিলা সংরক্ষণ আইনকে ঘিরে নিজেদের অবস্থান ফের স্পষ্ট করল তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, তারা মহিলাদের জন্য আইনসভায় সংরক্ষণের বিরোধী নয়। তবে জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে এই প্রক্রিয়াকে যুক্ত করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেই তাদের আশঙ্কা।
ডিএমকের যুব শাখার নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেন, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগকে তাঁর দল সমর্থন করে। কিন্তু জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই সংরক্ষণ কার্যকর করার যে শর্ত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাঁর দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলি যেন কোনওভাবেই শাস্তির মুখে না পড়ে।
ডিএমকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষিণের রাজ্যগুলি সফল হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির সাংসদ সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। এতে দেশের ফেডারেল কাঠামো এবং রাজ্যগুলির রাজনৈতিক ভারসাম্যের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের বক্তব্য হল, মহিলা সংরক্ষণ আইন দেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে এবং জনগণনা ও ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই তা কার্যকর করা সম্ভব। তবে বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ—দুটি বিষয়ই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ডিএমকের অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।