প্রাক্তন ‘তহেলকা’ সম্পাদক তরুণ তেজপালের আবেদন খারিজ করে দু’সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৩ সালের গোয়ার যৌন নিগ্রহের মামলায় বম্বে হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন তেজপাল। সেই আবেদনের শুনানির আগে আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই আর্জি খারিজ করে দেয় বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে গোয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে তেজপালকে। আত্মসমর্পণের শংসাপত্র আদালতে জমা পড়ার পরই তাঁর দায়ের করা আপিলের শুনানি হবে। পরবর্তী শুনানির সম্ভাব্য তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর।
তেজপালের আইনজীবী কপিল সিবল আদালতে যুক্তি দেন, হাই কোর্টের রায় ঘোষণার পরেই তাঁকে আত্মসমর্পণ থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। মামলাটি ২০১৩ সালের এবং দীর্ঘ সময় ধরে তেজপাল জামিনে ছিলেন বলেও আদালতের নজরে আনা হয়। অন্য দিকে, গোয়া সরকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তেজপালের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ করার আগে তেজপালের আত্মসমর্পণ করা প্রয়োজন।
২০১৩ সালে গোয়ার একটি হোটেলের লিফটে তৎকালীন এক মহিলা সহকর্মীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে তেজপালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গোয়া সরকার হাই কোর্টে যায়।
চলতি বছরের ৬ অগস্ট বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেজপাল। একই সঙ্গে গোয়া সরকারও তাঁর সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করার দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের নির্দেশে আপাতত তেজপালকে কারাদণ্ডের রায় মেনে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। এরপর আত্মসমর্পণের নথি আদালতে জমা পড়লে তাঁর সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানির পথ খুলবে।