দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে মিষ্টি ও খাদ্যপ্রস্তুতকারী ব্যবসায়ীদের উপর। এই পরিস্থিতিতে দেশে চিনির জোগান নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে আশ্বাস দিল ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইস্মা)।
ইস্মার সভাপতি নীরজ শিরগাঁওকর জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মজুত রয়েছে। উৎসবের মরশুমে বাড়তি চাহিদা মেটানোর মতো জোগানও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। ফলে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে সরবরাহ ব্যবস্থার বড়সড় সংকট হিসেবে দেখার কারণ নেই বলেই মনে করছে সংগঠনটি।
ইস্মার বক্তব্য, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মরশুমে চিনি উৎপাদন কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি ঘাটতির আশঙ্কায় একাংশের মজুতদারি ও ফাটকাবাজির কারণেও বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চিনির দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশাবাদী সংগঠনটি।
চিনির জোগান বাড়াতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। ২০ অগস্ট কেন্দ্র সর্বাধিক ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ওই আমদানিতে কোনও শুল্ক দিতে হবে না। আমদানি করা চিনি পরিশোধনের পর চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করার শর্তও রাখা হয়েছে।
এদিকে ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজও দেশে পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা ২০২৬-২৭ চিনির মরশুমের শুরুতে দেশে প্রায় ৩৫ লক্ষ টন উদ্বৃত্ত চিনি মজুত থাকতে পারে।
ফলে উৎসবের মরশুমের আগে চিনির দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থাকলেও, পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও চিনি শিল্প—দু’পক্ষই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।